ভাতা পাবেন ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন

আজ ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:০২ পূর্বাহ্ন, ১০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৬ অপরাহ্ন, ১৭ মার্চ ২০২৬

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানী এলাকার টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি-সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আরও পড়ুন: কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠাই জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির সুফল যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের ঘরে পৌঁছে—সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনীতিকরণ বা দলীয়করণ হয়নি। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বাধীন পদ্ধতিতে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন ও গৃহস্থালি সামগ্রীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতির মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার একটি করে আধুনিক কার্ড পাবে। স্পর্শবিহীন চিপসংবলিত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কার্ডটিকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করবে।

প্রাথমিকভাবে সুবিধাভোগীরা মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ ভাতা পাবেন। ভবিষ্যতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই ভাতার টাকা জমা হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বা বিলম্বের সুযোগ থাকবে না।

পাইলট পর্যায়ে আগামী জুন মাসের জন্য মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে এবং বাকি অর্থ অনলাইন সিস্টেম ও কার্ড প্রস্তুতের কাজে ব্যয় হবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।