বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধ থাকা যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর আলোচনা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ন, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩২ অপরাহ্ন, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে দুই দেশ। ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের আন্তঃসরকারি রেলওয়ে বৈঠকে মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা পিটিআইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ যাত্রীবাহী ট্রেন

আরও পড়ুন: ঢাকার প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ ই-রিকশা

২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শুরুতে সাময়িকভাবে চলাচল বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও পরে মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।

তবে প্রায় নয় মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়। যাত্রীবাহী ট্রেন অবশ্য এখনো চালু হয়নি। পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিতালী এক্সপ্রেস সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা থেকে যাত্রা করেছিল। এরপর ট্রেনটি আর ভারতে ফিরে যায়নি বলে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য আলাদা লেন ও চার্জিং স্টেশনসহ ৬ দাবি

কোন ট্রেন কোন রুটে চলত

মৈত্রী এক্সপ্রেস: ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচল করত।

বন্ধন এক্সপ্রেস: খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচল করত।

মিতালী এক্সপ্রেস: ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে চলাচল করত।

রাজশাহী-কলকাতা নতুন রেলপথের প্রস্তাব

বৈঠকে বাংলাদেশ নতুন একটি আন্তঃদেশীয় রেলপথ চালুর প্রস্তাব দিতে পারে বলেও পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটে রাজশাহীকে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে বর্তমানে ব্যবহৃত যমুনা সেতুর পরিবর্তে নতুন নির্মিত পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

আগামী মাসে চালুর সম্ভাবনা

দুই দেশের বৈঠকে যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে ঐকমত্য হলে আগামী মাসের শুরুতেই মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালু হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করতে হলে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ফলে বৈঠকে আলোচনা ও ঐকমত্য হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

দুই দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রী চলাচল আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের যোগাযোগব্যবস্থায়ও গতি ফিরতে পারে।