গাউসুল আজম মার্কেটের সমবায় বিরোধ নিষ্পত্তি মামলা
জেলা সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রায় নিয়ে ‘তালবাহানার’ অভিযোগ
রাজধানীর নীলক্ষেতে গাউসুল আজম মার্কেট সংশ্লিষ্ট একটি সমবায় বিরোধ নিষ্পত্তি মামলার রায় ঘোষণায় দীর্ঘসূত্রতা ও তালবাহানার অভিযোগ উঠেছে জেলা সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে চরম অসন্তোষ ও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মোকাদ্দমা নং-০১/২০২৬-এর অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, মার্কেট পরিচালনা, দোকান বরাদ্দ, দলিল সম্পাদন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীর দাবি, সমবায় সমিতির নাম ব্যবহার করে হোল্ডিং নম্বরের ভিত্তিতে শত শত দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলেও সিএস, আরএস, এসএ খতিয়ানসহ মৌলিক ভূমি রেকর্ড উপেক্ষা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা ওয়াসার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
অভিযোগে আরও বলা হয়, দোকান বরাদ্দ ও দলিল সম্পাদনের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হলেও তা সমিতির তহবিলে জমা হয়নি। বরং ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, হোল্ডিং ট্যাক্স, নিরাপত্তা এবং নাম পরিবর্তনসহ বিভিন্ন খাতে নিয়মবহির্ভূত মাসিক চার্জ আদায়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্যমতে, এসব লেনদেন ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার একটি অংশ বিভিন্ন খাতের আড়ালে দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে সমিতির হিসাবে জমা হয়নি। এতে সমিতির আর্থিক কাঠামো ভেঙে পড়ার পাশাপাশি দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকাকে বাঁচাতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ‘দ্বিতীয় যুদ্ধ’ ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের
অভিযোগে আরও বলা হয়, পূর্ববর্তী সময়ে আন্দোলন, মানববন্ধন ও আইনগত নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর জবাব পাওয়া যায়নি। বরং অভিযোগকারীর ওপর চাপ প্রয়োগ, হয়রানি এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যার ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট মামলার রায় ঘোষণায় বিলম্ব এবং জেলা সমবায় কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের শামিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সমিতির নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অবৈধভাবে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। মামলায় প্রায় ১৪২ কোটি টাকার সমবায় তহবিল এবং ব্যক্তিগতভাবে ২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা কিংবা অভিযুক্ত পক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মামলার রায় নিয়ে অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক অবস্থান ঘিরে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।





