আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৭:২৯ অপরাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ সিদ্ধান্ত জানায়।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

আরও পড়ুন: রোববার থেকে নতুন সময়সূচিতে অফিস

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অধ্যাদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, তা সংশোধন ও পরিমার্জন করে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সংশোধনীর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

অধ্যাদেশে সরকারকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই বিধান যুক্ত করা হয়। বিশেষ কমিটি এটি বাতিল না করে সংশোধনীর মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

আরও পড়ুন: সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধে সরকারের নির্দেশ বহাল বাস্তবতায় মিশ্র চিত্র

অন্যদিকে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত কঠোর আইনি অধ্যাদেশটি বর্তমান অধিবেশনে কার্যকর হচ্ছে না। সংসদীয় বিশেষ কমিটি এটি আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ’সহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই অনুমোদন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিল আকারে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে গুমের বিরুদ্ধে কঠোর এই আইনের প্রয়োগ আপাতত বিলম্বিত হচ্ছে।

এই অধ্যাদেশে গুমকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, স্থগিতের কারণে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনটি বাতিল নয়; প্রক্রিয়াগত কারণে পরবর্তী অধিবেশনে এটি বিল হিসেবে উত্থাপন করা হবে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি ‘শেলভড’ বা স্থগিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাতিলের তালিকায় থাকা সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অধ্যাদেশ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং পৃথক সচিবালয় গঠনের লক্ষ্যে জারি করা হয়েছিল। এসব অধ্যাদেশে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার প্রস্তাব ছিল। এছাড়া বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের উদ্যোগও ছিল।

তবে বিশেষ কমিটির সুপারিশে এসব সংস্কার বাতিলের মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা বিচার বিভাগ ও পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করেছেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিলগুলো আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে পর্যায়ক্রমে সংসদে উত্থাপন করা হবে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক সিদ্ধান্তগুলো এখন সংসদীয় আলোচনার মুখে পড়তে যাচ্ছে।