চরম ঝুঁকিতে জনজীবন ও সড়ক নিরাপত্তা

রূপগঞ্জে অবৈধ ডাম্প ট্রাকের দৌরাত্ম্য, কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

Sadek Ali
শ্রী দিপু চন্দ্র গোপ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ন, ২৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:২৭ অপরাহ্ন, ২৫ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে চলাচল করছে বিপুল সংখ্যক অবৈধ ডাম্প ট্রাক। এসব ট্রাকের অনেকগুলোরই নেই বৈধ নিবন্ধন, নাম্বার প্লেট কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ফলে একদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব, অন্যদিকে অতিরিক্ত বালু বহনকারী এসব ভারী যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি ডাম্প ট্রাক চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে প্রায় পাঁচশ ট্রাকেরই বৈধ নাম্বার প্লেট, রেজিস্ট্রেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, একটি ডাম্প ট্রাকের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে প্রায় ৬৬ হাজার ৬৬৫ টাকা ব্যয় হয়। সে হিসাবে শুধু এই পাঁচশ' অবৈধ ট্রাকের কারণেই সরকার প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া, ভুলতা, রূপসী, নলপাথর, কালাদি, হাটাবো, হান্ডি মার্কেট, আলাশপুর ও কাঞ্চন ব্রিজসংলগ্ন বিভিন্ন বালুর ঘাট ও ডিপো থেকে প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাক অতিরিক্ত বালু বোঝাই করে মহাসড়কে চলাচল করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ট্রাক প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করে চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

আরও পড়ুন: ৩০ বছরের জমি বিরোধের অবসান, রাস্তার নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

এলাকাবাসীর দাবি, ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি ও ভবনগুলোও তীব্র কম্পনের মুখে পড়ছে। অনেক সময় কাঁচা সড়কে ট্রাকের চাকা বসে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।মুড়াপাড়া সরকারি কলেজের শিক্ষিকা কান্তা ঘোষ বলেন, ডাম্প ট্রাকগুলো রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। মনে হয় যেন ভূমিকম্প হয়েছে। অতিরিক্ত বালু বহন করে দ্রুতগতিতে চলাচলের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক সময় কাঁচা সড়কে ট্রাক আটকে গেলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য এগুলো এখন বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।পথচারী মুন্না মিয়া বলেন, সড়কে ডাম্প ট্রাক দেখলেই আতঙ্ক কাজ করে। অনেক চালক বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান। শিশু ও মোটরসাইকেল আরোহীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।চাকরিজীবী দ্বীন ইসলাম বলেন,অবৈধ ডাম্প ট্রাকের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।ডাম্প ট্রাক চালক ফারুক আহমেদ বলেন, আমরা মালিকের নির্দেশনা অনুযায়ী গাড়ি চালাই। সড়কে চলাচলের সময় যতটা সম্ভব সতর্ক থাকার চেষ্টা করি।এ বিষয়ে ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক জসীম উদ্দীন বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন,মহাসড়কে অবৈধ ডাম্প ট্রাক চলাচলের অভিযোগ সঠিক নয়। আইন ভঙ্গের কোনো ঘটনা ঘটলে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমাদের সামনে দিয়ে কোনো নাম্বার প্লেটবিহীন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন চলাচল করলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জয় বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন,অবৈধ ডাম্প ট্রাক চলাচলের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অবৈধ ডাম্প ট্রাকের অবাধ চলাচল শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতির কারণ নয়, এটি জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। তারা দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।