শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের কাছে ফের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ বাংলাদেশের

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৮ অপরাহ্ন, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে আবারও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার জানায়, দিল্লি সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিন দিনের সফরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গিয়ে খলিলুর রহমান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আগামী ৭ জুন শুরু হচ্ছে বাজেট অধিবেশন: স্পিকার

এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর রায়ের পর ২১ নভেম্বর প্রথমবার ভারতের কাছে প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও একই অনুরোধ জানায়। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনুরোধ তারা পেয়েছেন এবং বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে ‘নির্দেশ ও ইন্ধনদাতা’ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ বিভাগে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে হাসিনা সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী

এই সফরে প্রত্যর্পণ ইস্যুর পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা মামলার আসামি প্রত্যর্পণে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য, বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার সম্ভাবনা এবং ডিজেল ও সার সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ।

এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।