খিলগাঁওয়ে ডিএসসিসি কার্যালয়ে ঢাকা ব্যাংকের কালেকশন বুথ উদ্বোধন
রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, ট্রেড লাইসেন্স ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নাগরিকদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-২ (খিলগাঁও) কার্যালয়ে ঢাকা ব্যাংকের একটি নতুন কালেকশন বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বুথটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
আরও পড়ুন: রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক যেন নৈরাজ্যের আস্তানা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবার মান বাড়াতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকা ব্যাংকের নতুন কালেকশন বুথ চালুর ফলে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা সহজেই সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ফি পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সেবার মান উন্নয়নে প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, অতীতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কালেকশন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমান সরকার উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার নীতিতে বিশ্বাস করে। তাঁর ভাষায়, যে প্রতিষ্ঠান দ্রুত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে পারবে, তারাই নাগরিকদের আস্থা অর্জন করবে। ঢাকা ব্যাংকও প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে মিৎসুই অ্যান্ড কোং প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সভা অনুষ্ঠিত
নাগরিক সেবা সহজীকরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মো. আবদুস সালাম বলেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত সিটি কর্পোরেশনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ চলছে। তিনি স্বীকার করেন, প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে এখনো কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকদের ভোগান্তি রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে এখন থেকে জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, সড়কবাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশক নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবায় মুখ্য সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাজধানীর নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ঢাকার অবকাঠামো ও নাগরিক সেবা উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। সব লক্ষ্য এখনো অর্জিত না হলেও সেগুলো বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে।
বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কমাতে হবে এবং ব্যবহৃত পলিথিন ড্রেনে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে নগরসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ঢাকা ব্যাংকের প্রতিনিধিরা এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।





