তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব বাংলাদেশের, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে জোর

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ন, ০৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪০ অপরাহ্ন, ০৫ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশে তুরস্কের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: বন্ধ শিল্পকারখানা সচলে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল

ড. খলিলুর রহমান বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যের বর্তমান পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন প্রণোদনা সম্পর্কে তুরস্ককে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তুর্কি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। তুরস্কের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়েও বাংলাদেশের সমর্থন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: ‘ভাই, এত ব্যস্ত হইয়েন না’: ছুটির বিষয়ে প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্ক শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার তুর্কি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ শিল্প, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্মার্ট প্রযুক্তি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে তুরস্কের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্যও তুরস্ককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক তুরস্কে অবস্থান করছেন, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। দুই দেশের মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময় ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে তুরস্কের কাছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বৃত্তি প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বড় মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হলো রোহিঙ্গা সংকট। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি এ বিষয়ে তুরস্কের মানবিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।