মতিঝিল মেট্রোরেলের নিচে বোমা, কাউকে এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ
মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সড়কের ওপর কে বা কারা বোমাটি রেখে গেছে, তা এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। তবে সন্দেহভাজনকে শনাক্তে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দারাও তদন্তে নেমেছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, "এখনো পর্যন্ত কে বোমাটি রেখে গেছে, তাকে শনাক্ত করা যায়নি। তবে ঘটনাস্থলের আশপাশে মেট্রোরেল এবং বিভিন্ন অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীকে শনাক্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কে বোমাটি রেখে গেছে এবং তার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা সহসাই বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছি।"
আরও পড়ুন: স্পিকারের বাসভবনে থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, বঙ্গভবনে অফিস
এদিকে মতিঝিল মেট্রোরেলের নিচে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানার এসআই মো. মির্জা আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। তবে মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই মামলার কপি তদন্তের স্বার্থে সরকারের অন্যান্য সংস্থাগুলোকেও দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ সন্দেহ করছে, বোমাটি এখানে যে-ই রেখে যাক, মূলত আতঙ্ক তৈরি করার জন্যই এটি করা হয়েছিল। তবে বোমাটি কোনো রিমোট কন্ট্রোল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল না। এটি ছোট একটি বোমা, যার উদ্দেশ্য ছিল বিস্ফোরণ ঘটানো। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য। এ ক্ষেত্রে কোনো চিহ্নিত গোষ্ঠী কিংবা ব্যক্তি জড়িত কিনা, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রজ্ঞাপন জারি
এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের (শাপলা চত্বর সংলগ্ন) নিচের সড়কে ছাতার ভেতরে মোড়ানো অবস্থায় বস্তুটি দেখতে পান পথচারীরা। ছাতার ভেতর লাল বাতি মিটমিট করতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ও ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল দল বস্তুটির মধ্যে ডিটোনেটর ও বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। পরে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের সড়কে যান চলাচল সীমিত করে। রাত ৮টা ৫ মিনিট থেকে ৮টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাসদৃশ বস্তুটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিকট বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।





