জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আরও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ও নেতৃত্বের পদ চাইল বাংলাদেশ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪০ অপরাহ্ন, ০৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৬ অপরাহ্ন, ০৭ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ও পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি, বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের আরও নেতৃত্বস্থানীয় পদে নিয়োগ এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনে জাতিসংঘের জোরালো সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস)-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টের পরিচালনাগত সহযোগিতা, আর্থিক প্রতিপূরণ দ্রুত প্রদান, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি (WPS)’ এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন: চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সদস্যদের প্রতিপূরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে ডিওএসের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা মিশনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণে জাতিসংঘের ভূমিকাকেও স্বাগত জানান।

মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কার্বন নিঃসরণ কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপনকারী প্রথম দেশ বাংলাদেশ এবং এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী।

আরও পড়ুন: আকাশ প্রতিরক্ষায় চীনের চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি প্রস্তুত

নারী শান্তিরক্ষীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে আরও নারী-বান্ধব ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য শান্তিরক্ষীদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে হাইতির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পুলিশ তিনটি আধুনিক বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট (FPU) মোতায়েনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

তিনি বলেন, এসব ইউনিটে সোয়াট, র‌্যাপিড রেসপন্স, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ (EOD), ফরেনসিক, ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট, সংগঠিত অপরাধ ও সাইবার অপরাধ তদন্ত, নৌ-অভিযান এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে দক্ষ সদস্যরা রয়েছেন।

এ বিষয়ে আরও আলোচনা করতে আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুলাই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এমওইউ সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নেবে বলেও জানান মন্ত্রী। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ এফপিইউ মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য পুলিশ অবদানকারী দেশের ইউনিটের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ টিম মোতায়েনেও বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও শৃঙ্খলার প্রশংসা করেন। তিনি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে বাংলাদেশের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন এবং হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনসহ বাংলাদেশের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা করেন।