পদত্যাগের পর বঙ্গভবনের চারপাশে উৎসুক জনতার ভিড়

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৫৫ অপরাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৮ অপরাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ জাগোনিউজ
ছবিঃ জাগোনিউজ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাজধানীর বঙ্গভবনের সামনে উৎসুক জনতা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীদের ভিড় দেখা গেছে। একই সঙ্গে বঙ্গভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা বঙ্গভবনের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়।

আরও পড়ুন: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

সরেজমিনে দেখা গেছে, বঙ্গভবনের সামনে স্থাপিত ব্যারিকেডে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা সেখানে জড়ো হন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্যারিকেডের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে সংবাদকর্মীরা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দ্বিতীয় ফটকের সামনে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে উৎসুক সাধারণ মানুষেরও উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি যানবাহনকে বঙ্গভবনে প্রবেশ ও বের হতে দেখা গেছে।

বঙ্গভবনের সামনে উপস্থিত যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসহাকিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আবদুল্লাহ বলেন, “শুনেছি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব পদত্যাগ করেছেন। তিনি বের হন কি না, সেটি দেখতে এসেছি। মতিঝিলে একটি কাজে এসেছিলাম, সেখান থেকে এখানে চলে আসি।”

আরও পড়ুন: বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা স্পিকারের

এর আগে শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, তার পদত্যাগপত্র কার্যকর হওয়ার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থতা এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না। সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর বিভিন্ন সংগঠন তার পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি পালন করলেও তিনি দায়িত্বে বহাল ছিলেন। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।