এফওপিএল দ্রুত চালু না হলে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের ঝুঁকি বাড়বে

Sadek Ali
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৩৯ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১০:২১ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসজনিত অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কের সামনের অংশে স্পষ্ট ও সহজবোধ্য সতর্কবার্তা বা ‘ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল)’ দ্রুত বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, ভোক্তার অধিকার সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের সামনে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বির উপস্থিতি সম্পর্কে দৃশ্যমান সতর্কতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

তাঁরা বলেছেন, প্যাকেটের পেছনে ছোট অক্ষরে জটিল পুষ্টি-তথ্য উল্লেখ থাকলে অধিকাংশ ভোক্তার পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্যটির স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণ করা কঠিন। ফলে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পর্কে ভোক্তাকে সচেতন করতে সামনের অংশে সহজে দৃশ্যমান সতর্কবার্তা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত খসড়া প্রবিধানমালার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে কার্যকর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর বিআইপি কনফারেন্স রুমে ২৪ ও ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল): প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় এসব কথা উঠে আসে। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত কর্মশালায় বাংলাবাজার পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার এম এম লিংকনসহ প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ২৬ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

কর্মশালায় বক্তারা জানান, বাংলাদেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ ঘটে। এসব রোগের অন্যতম ঝুঁকি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবারের ব্যবহার বাড়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: র‍্যাবের এডিজি ও রংপুর কমিশনারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তার রদবদল

বক্তাদের মতে, খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের পেছনে থাকা পুষ্টি-তথ্য সাধারণ ভোক্তার জন্য অনেক সময় দুর্বোধ্য। ফলে কোনো পণ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা ক্ষতিকর চর্বি রয়েছে কি না, তা কেনার সময় দ্রুত বোঝা সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় প্যাকেটের সামনের অংশে সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা যুক্ত করা হলে ভোক্তা তুলনামূলকভাবে সহজে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে পণ্য নির্বাচন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, এফওপিএল-সংক্রান্ত খসড়া প্রবিধানমালা বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এটি দ্রুত চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এফওপিএল একটি বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ভোক্তা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সহজেই বুঝতে পারবেন।

জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, অসংক্রামক রোগে অকালমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এফওপিএল-সংক্রান্ত প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করা জরুরি।

চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় এফওপিএলের কার্যকারিতা নিয়ে গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ হলে খসড়া প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় জনসচেতনতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার হবে।

কর্মশালায় অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মার কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রজ্ঞার কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার ও প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যপণ্যের লেবেলিং কেবল ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয় নয়; এটি অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত হাতিয়ার। তাই এফওপিএল বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি গণমাধ্যম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।