বিভেদ-প্রতিহিংসা কোনো জাতিকে শক্তিশালী করে না: রাষ্ট্রপতি

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:৪৯ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৬ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কখনো কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অতীতের কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ ও অন্যায় যাতে আর ফিরে না আসে, সেজন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে হবে এবং ইসলামের শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী আয়োজনে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক অধিকার ও সমন্বিত সমাজব্যবস্থার যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, জাতীয় জীবনেও শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সেটি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: র‍্যাবের এডিজি ও রংপুর কমিশনারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তার রদবদল

রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন, সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করবেন এবং ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য রাষ্ট্র ও সমাজের মূল ভিত্তি হবে।

বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও ইসলামী সংস্কৃতির সঙ্গে জাতীয় জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেন। পাশাপাশি চারটি বিভাগীয় শহরে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ইমামদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’।

রাষ্ট্রপতি জানান, পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট। এসব উদ্যোগের ফলে মসজিদ, ইমাম, ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।

ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সেবাদানকারীদেরও সম্মানী ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০৩০ সালের আগেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের সব মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় মাসিক সম্মানী ভাতার আওতায় আসবে।

আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের পথপ্রদর্শক। মসজিদের মিম্বর থেকে কোটি মানুষের কাছে সত্য, ন্যায়, সততা, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, গুজব, হিংসা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অসহিষ্ণুতা দূর করতে ধর্মীয় নেতাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা রাখতে হবে।

শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতিকে সব ধরনের অনিষ্ট, বিভেদ ও অশান্তি থেকে রক্ষা এবং বাংলাদেশকে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দোয়া করেন।