ঈদে মিলাদুন্নবীতে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩০ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: বম্বে সুইটসের পাঁচ মসলাসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হেদায়েত, কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তার প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবজাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহানবী (সা.) জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ ও মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হন।

আরও পড়ুন: সরকার ভুল করলে ধরিয়ে দিন: আইনমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি বলেন, মহানবী (সা.)-এর ওপর মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। তার মাধ্যমে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার আদর্শে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ তাকে ‘সমগ্র জগতের জন্য রহমত’ হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.) তার জীবন ও কর্মের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানুষের মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়ে গেছেন। নারী, শিশু, প্রতিবেশী ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়েও তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিদায় হজের ভাষণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানবিক মর্যাদা, অধিকার, সাম্য, ন্যায় ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার যে শিক্ষা মহানবী (সা.) দিয়েছেন, তা সর্বজনীন এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়।

বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার প্রেক্ষাপটে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর এই পবিত্র সময়ে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করতে হবে। একই সঙ্গে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করতে হবে।

বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি মহান আল্লাহর কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মানুষের ওপর আল্লাহর রহমত, বরকত, শান্তি ও কল্যাণ বর্ষণের জন্য দোয়া করেন।