পুরো অর্থনীতি মডেলে নতুন পদ্ধতি শুরু করেছি: অর্থমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:০৫ অপরাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২:০৭ পূর্বাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সময়ে অর্থনীতির সংজ্ঞা বদলে গেছে। সরকারের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। তাই সরকারি সেবা মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে কাজ করা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লুর একটি হলরুমে শহরের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পুরো অর্থনীতি মডেলে নতুন পদ্ধতি শুরু করেছি। আগে যেখানে ফাইন্যান্সিং শুধু সীমিত কিছু জায়গা থেকে হতো, এখন তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এখন আমরা সীমিত জায়গা থেকে সরে গিয়ে পিপিপি মডেলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের দিকে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, এই মডেলে সরকার অর্থ দেবে, বেসরকারি খাতও অর্থায়ন করবে এবং এনজিওগুলো সহযোগিতা করবে। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে যে মডেল তৈরি করা হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং এর ওপর নির্ভর করা যাবে।

আরও পড়ুন: হাম প্রতিরোধে বাদ পড়া শিশুদের জন্য ফের টিকাদান ক্যাম্পেইন

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের সুফল পেতে রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার অনেক কিছু বাস্তবায়ন করলেও পরবর্তী সময়ে সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। নতুন মডেলে পুরো বিষয়টি একটি প্যাকেজের আওতায় নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্লিন ওয়াটারের সঙ্গে সঙ্গে বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশনের সমস্যাটাও আমরা সিরিয়াসলি দেখছি। এটা নিয়েও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে নতুন মডেলে কাজ শুরু হয়েছে। নগরীর পতেঙ্গার দুটি ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর যাত্রা শুরু হলো। এর মাধ্যমে পানি সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এর অংশ হিসেবে নগরীর প্রান্তিক পর্যায়ে উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গায় একটি নতুন পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের সব মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। কিন্তু শুধু সরকার একা এটা করতে পারে না, এ জন্য পার্টনারশিপটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মডেলে পানি সংকট নিরসনের চেষ্টা করছি আমরা।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্পে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা একসঙ্গে কাজ করবে।

চুক্তির আওতায় ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। প্রতিষ্ঠান তিনটি তিন বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে।