কালো ধোঁয়ার যানবাহনে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:২১ অপরাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর সড়কে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নজরদারি ও আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো যানবাহন থেকে দৃশ্যমান কালো ধোঁয়া নির্গত হতে দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত জুলাই মাসে ৯১৫টি মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত শব্দ, বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে দর্শনার্থীকে নিয়ে ছড়ানো ভিডিওকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলল আনসার

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোনো যানবাহন সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যানবাহনের ফিটনেস বা কারিগরি মান নির্ধারণ করা ট্রাফিক পুলিশের সরাসরি দায়িত্ব নয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যানবাহনের ফিটনেস সনদ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। তবে সড়কে চলাচলের সময় কোনো যানবাহন আইন লঙ্ঘন করলে ট্রাফিক পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।

আরও পড়ুন: শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র জানাল পুলিশ, জানুয়ারি-জুলাইয়ে উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯

ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, সাধারণত ইঞ্জিনের ত্রুটি বা যান্ত্রিক সমস্যার কারণে যানবাহন থেকে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গত হতে পারে। নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারেও ইঞ্জিন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে যানবাহনের কারিগরি সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মালিকদেরও গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এসব অভিযানে কতটি মামলা হয়েছে, তার পরিসংখ্যান দেওয়া সম্ভব। কিন্তু শুধু মামলা বা পরিসংখ্যান প্রকাশ করলেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

শব্দদূষণেও মামলা: 

রাজধানীর সড়কে কালো ধোঁয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত শব্দ ও অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান আনিছুর রহমান।

তিনি বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে গত মাসেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় নীরব এলাকা ঘোষণা করে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অনেক চালক এসব নির্দেশনা মানছেন না।

তিনি আরও বলেন, ‘নীরব এলাকা’ কোথা থেকে শুরু এবং কোথায় শেষ—এ বিষয়েও অনেক চালকের সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে নির্ধারিত নীরব এলাকায়ও অনেকে অবিরাম হর্ন ব্যবহার করছেন। তবে হর্ন ব্যবহারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার যথাযথ প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।

আইন মানার বিকল্প নেই: 

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি যানবাহন মালিক ও চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। বিশেষ করে যেসব যানবাহন থেকে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গত হয়, সেগুলো নিয়মিত পরীক্ষা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামত ছাড়া সড়কে নামানো উচিত নয়।

ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, সড়কে কোনো যানবাহন আইন লঙ্ঘন করলে সেটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হোক বা গণপরিবহন—আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

রাজধানীর যানবাহন ব্যবস্থাপনায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ফিটনেস পরীক্ষার কার্যকারিতা, যানবাহনের কারিগরি ত্রুটি, জ্বালানির মান এবং চালকদের সচেতনতার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে কালো ধোঁয়া ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব।