সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, দিলেন নানা দিকনির্দেশনা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩০ অপরাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে আরও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের জন্য কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

সভায় লালন উৎসব ও নজরুলবর্ষকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসব উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ও প্রস্তাবিত কর্মসূচি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।

সভায় জানানো হয়, শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবে সার্কাস, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড়, পাপেট শো, বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: বেবিচকের উদ্যোগে দেশজুড়ে শুরু ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক–২০২৬’

এ ছাড়া জুলাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা তাঁদের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে আরও সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া যায় কি না, তা ভেবে দেখতে হবে। পাশাপাশি পাঠচক্র, বই পড়ার প্রতিযোগিতা এবং এ ধরনের অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি হাজার বছরের। কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা তা হয়তো যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছি না। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছি, নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাব। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে আরও বেশি করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।’

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে উপস্থিত সবারই কোনো না কোনো যোগ্যতা রয়েছে। সবাইকে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিই, তাহলে আমরা সবাই মিলে যে ধরনের দেশ দেখতে চাই, অন্তত তার কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করতে পারব। দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। আমরা যেন সেই সুযোগ কাজে লাগাই।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।