মৌলিক পরিবর্তনের দাবি উপেক্ষা করছে সরকার: ডা. শফিকুর রহমান
সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, স্বাধীন ভোট কমিশন ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন—কোনোটিই সরকার চায় না। ফলে যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার কারণে অতীতে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: পাঁচ লাখ গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নিয়ে রিজভীর সঙ্গে এ্যাবের মতবিনিময়
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল, এত মানুষের আত্মত্যাগ ও জীবনের বিনিময়ে দেশে একটি মৌলিক পরিবর্তন আসবে এবং বাংলাদেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন এবং সংস্কার পরিষদের সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে দুটি ভোট হলেও একটি ভোটের মূল্যায়ন করা হয়েছে, অন্যটি উপেক্ষা করা হয়েছে। অথচ উভয়টিই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে মাঠে ১১ দল, ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
জামায়াতের আমিরের দাবি, প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের মতামত বর্তমান সরকার অগ্রাহ্য করেছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন শুরুতেই ঠিক করতে হয়। দিনের শুরু যেমন পুরো দিনের চিত্র নির্ধারণ করে, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তিও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই গণভোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু জনগণ গণভোটে মত দেওয়ার পরও সেই রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ধারাবাহিক কর্মসূচিও পালন করছেন। এটি কোনো দলীয় দাবি নয়, বরং জনগণের দাবি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সমাজব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজের একটি শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত অংশ জনগণের আমানতের খেয়ানত করছে। তারা বৈধতার সীমা লঙ্ঘন করে মানুষের সম্পদ ও সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে। প্রকৃত শিক্ষা থাকলে তারা মানুষের ওপর অন্যায় করতেন না। একটি সমাজ কতটা সুশৃঙ্খল হবে, তা মূলত রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের আচরণের ওপর নির্ভর করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করলেও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এর জন্য সাধারণ মানুষ নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যর্থতাই দায়ী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এখনো সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, মানুষের জীবনে নিরাপত্তা নেই, যুবকদের কর্মসংস্থান নেই এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়নি।
অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





