তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শান্ত
মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়া, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের আপত্তি প্রকাশসহ নানা ইস্যুতে উত্তপ্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন। এবার সেই উত্তাপে নতুন করে ঘি ঢেলেছে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের করা এক বিতর্কিত মন্তব্য।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে সাবেক টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে মন্তব্য করেন বিসিবি পরিচালক নাজমুল। ক্রিকেট বোর্ডের একজন পরিচালকের এমন মন্তব্যে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। ক্রিকেটারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) ইতোমধ্যেই এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এবার এ বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানালেন জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
আরও পড়ুন: ৩৩ রানে নেই ৪ উইকেট, বিপদে পড়ে চা খেতে গেল বাংলাদেশ
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ২ উইকেটের হারের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শান্ত এই মন্তব্যকে ‘দুঃখজনক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন।
শান্ত বলেন,খুবই দুঃখজনক, কারণ আমরা এমন একজন ক্রিকেটারের সম্পর্কে এমন একটা মন্তব্য করে ফেলেছি, যিনি সাবেক অধিনায়ক এবং বাংলাদেশের অন্যতম সফল ক্রিকেটার। যাকে দেখে আমরা বড় হয়েছি। যেকোনো ক্রিকেটারই দিনশেষে সম্মানটুকু আশা করে। বাংলাদেশের হয়ে এত কিছু করা একজন মানুষকে নিয়ে এ ধরনের কমেন্ট করা সত্যিই দুঃখজনক।’
আরও পড়ুন: সাদমানের সেঞ্চুরির পরও ২৭২ রানে অলআউট বাংলাদেশ
বিসিবি পরিচালকের পরিচয় প্রসঙ্গে শান্ত আরও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সবচেয়ে কষ্ট লাগার বিষয় হলো ক্রিকেট বোর্ড তো আমাদের অভিভাবক। ঘরের মানুষের কাছ থেকে আমরা আশা করি যে তারা আমাদের আগলে রাখবে, রক্ষা করবে। সেই জায়গা থেকে এ ধরনের মন্তব্য একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি একদমই মানতে পারি না।
ব্যক্তিগত উদাহরণ টেনে শান্ত বলেন, আমার বাবা-মা আমাকে ঘরে বকাবকি করতে পারেন, কিন্তু মানুষের সামনে নয়। ভুল করলে সেটার সমালোচনা ঘরের ভেতরেই হওয়া উচিত। যিনি আমাদের অভিভাবক, তার কাছ থেকে এমন মন্তব্য আসাটা গ্রহণ করা খুবই ডিফিকাল্ট।
শেষে টেস্ট অধিনায়ক স্পষ্টভাবে বলেন, একজন অভিভাবক হিসেবে এ ধরনের মন্তব্য কখনোই যৌক্তিক হতে পারে না। আমি একজন প্লেয়ার হিসেবে এটা একদমই গ্রহণ করি না এবং আমি এর পক্ষে নই।’
এই মন্তব্যের পর বিসিবির অভ্যন্তরীণ শিষ্টাচার ও ক্রিকেটারদের প্রতি বোর্ডের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেট মহলে।





