ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:২৮ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১:২৮ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে পেন্টাগনের এক হিসাব থেকে জানা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরের দেওয়া হিসাবের তুলনায় বর্তমান ব্যয় ২৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

পেন্টাগনের এই হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

আরও পড়ুন: কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী

ইরান যুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে সংঘাতটির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে চাপে রয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।

যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রতি সমর্থনে প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সূচকেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে রিপাবলিকানরা।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসায় যেসব কাজ করা যাবে না, জানাল দূতাবাস

অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনেই বিপুল ব্যয়

পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনার সরাসরি ব্যয়ের পাশাপাশি ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রতিস্থাপনে ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হতে পারে।

এ ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম এবং যুদ্ধে হারানো বিভিন্ন সামরিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিস্থাপনে ৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। এর মধ্যে যুদ্ধ চলাকালে ধ্বংস হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া বিমান ও বহু ড্রোনও রয়েছে।

গত জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছিলেন। নতুন হিসাব সেই পরিমাণকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে।

যুদ্ধের ব্যয়ের মধ্যে বিমান পরিচালনা থেকে শুরু করে সাইবার সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামতে সম্ভাব্য বিপুল ব্যয় এই হিসাবের মধ্যে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বেড়েছে চাপ

ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন ট্রাম্প। শুরুতে তিনি সংঘাতটি স্বল্পস্থায়ী হবে বলে ধারণা দিয়েছিলেন।

যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ছিল ব্যয়বহুল ও উন্নত প্রযুক্তির নির্ভুল নিশানাভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল করা। এরপর আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য জেডিএএমের মতো তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। এ ধরনের বোমার মজুতও বেশি রয়েছে।

তবে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান ভূগর্ভস্থ অস্ত্র সংরক্ষণাগার থেকে সরঞ্জাম উদ্ধারের সুযোগ পায়। এর ফলে দেশটির কিছু প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আবার সচল হয়। আগে ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না—এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়।

এরপর ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয় কমানোর লক্ষ্যে দেশটির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবার সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রেখেছেন ট্রাম্প।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্দেশ দেওয়া হলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন।

যুদ্ধের ব্যয় বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেটের ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অস্ত্র ও সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটিগুলোর মেরামত ব্যয় যুক্ত হলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।