ড্র করেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল কানাডা
জয় না এলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনটি ঠিকই তুলে নিয়েছে কানাডা। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট অর্জনের স্বাদ পেয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশটি।
টরন্টোতে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে নেমেছিল কানাডা। ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এটি ছিল কানাডার ঘরের মাঠে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচটি ঘিরে ছিল বাড়তি আবেগ ও প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন: প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে গোলের নতুন ইতিহাস গড়ল যুক্তরাষ্ট্র
তবে শুরুটা স্বপ্নের মতো হয়নি স্বাগতিকদের। ম্যাচের ২১তম মিনিটে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচের হেড থেকে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে কানাডা। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।
গোল খাওয়ার পরও হাল ছাড়েনি জেসি মার্শের দল। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। সেই চেষ্টার ফল আসে ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে। ফরোয়ার্ড কাইল লারিন দুর্দান্ত এক কোনাকুনি শটে জাল খুঁজে পেলে উল্লাসে ফেটে পড়ে টরন্টোর গ্যালারি।
আরও পড়ুন: চেক প্রজাতন্ত্রকে ২–১ গোলে হারাল দক্ষিণ কোরিয়া
শেষ পর্যন্ত আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। আর এই ড্রয়ের মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট অর্জনের মাইলফলক স্পর্শ করে কানাডা।
বিশ্বকাপে কানাডার অতীত পরিসংখ্যান ছিল হতাশাজনক। ১৯৮৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরেছিল দলটি। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফিরেও একই পরিণতি বরণ করতে হয়। যদিও সেই আসরে আলফোনসো ডেভিস কানাডার হয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেছিলেন, কিন্তু দলটি তিন ম্যাচেই পরাজিত হয়।
ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশ্বকাপে কানাডার রেকর্ড ছিল ছয় ম্যাচে ছয় হার। সেই ব্যর্থতার ইতিহাস বদলে দিয়ে নিজেদের মাটিতে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে তারা।
কানাডিয়ান ফুটবলের জন্য এই অর্জন শুধু একটি ড্র নয়, বরং বহু বছরের হতাশা কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়ার প্রতীক। জয় না এলেও এই ম্যাচকে তাই কানাডার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় রাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।





