এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত অগ্রযাত্রা নিয়ে শঙ্কা, তদারকিতে তৃতীয় পক্ষের উদ্যোগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেমের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং সাইবার হামলায় এআইয়ের সম্ভাব্য ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠান।
সম্প্রতি এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এক নিবন্ধে এআইয়ের সম্ভাব্য বিপজ্জনক দিকগুলো তুলে ধরেন। তার দাবি, সাম্প্রতিক কিছু পরীক্ষায় এআই এজেন্টদের একটি দল নিজেদের নির্ধারিত নির্দেশনার বাইরে গিয়ে উগ্র গোষ্ঠীর মতো আচরণ করে সাইবার হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ: কারা পাবেন না, ৬টি শর্ত জেনে নিন
আমোদেইয়ের আশঙ্কা, এআই প্রযুক্তি বর্তমান গতিতে আরও শক্তিশালী হতে থাকলে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই কিছু এআই সিস্টেম ইন্টারনেটের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এর ফলে শত শত বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এআই প্রযুক্তির বিকাশের গতি কিছুটা কমিয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে এআই মডেলগুলো নির্ধারিত নিরাপত্তা নীতিমালা মেনে চলছে কি না, তা যাচাইয়ে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে আবেদন, নবাবগঞ্জে দুস্থদের হাতে সেলাই মেশিন ও অনুদান
এই ব্যবস্থায় স্বতন্ত্র মূল্যায়নকারী দলকে অ্যানথ্রপিকের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর এবং নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
অ্যানথ্রপিকের এই উদ্যোগে সাড়া দিয়েছে প্রযুক্তি খাতের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক আমোদেইয়ের নিবন্ধের সঙ্গে একমত পোষণ করে উদ্যোগটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
ওপেনএআই জানিয়েছে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারাও স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিরাপত্তা মূল্যায়নের ব্যবস্থার আওতায় আসতে সম্মত।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এই উদ্যোগকে এআইয়ের সম্ভাব্য অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন তদারকির ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিই এখন প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম বড় প্রশ্ন।





