ঢাকার যানজট কমাতে আসছে নতুন প্রস্তাব

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ন, ০১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৫ অপরাহ্ন, ০১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা কমাতে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে কিলোমিটারপ্রতি ৬ দশমিক ২৭ টাকা হারে যানজট শুল্ক (কনজেশন চার্জ) আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ২০২৫-২০৪৫ মেয়াদের সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (ইউআরএসটিপি)-এর খসড়ায় এ সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ভরযোগ্য, সহজলভ্য এবং কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই এই শুল্ক কার্যকর করা উচিত। অর্থাৎ এটি এখনো একটি প্রস্তাব, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

আরও পড়ুন: ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই শুল্ক রাজধানীর সব সড়কে আরোপ করা হবে না। বরং যেসব করিডোরে মেট্রোরেল, বিআরটি (বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট) এবং উন্নত বাসসেবা চালু রয়েছে, সেসব পথে চলাচলকারী প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ট্রাকের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে। এর লক্ষ্য হলো ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করা।

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে ঢাকার সড়কে যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২১ কিলোমিটার। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে। অর্থাৎ প্রায় দেড় দশকে রাজধানীতে যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কিলোমিটার কমেছে, যা নগরের যান চলাচল ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের চিত্র তুলে ধরে।

আরও পড়ুন: উত্তরা মেট্রোস্টেশনের নিচে পশুর হাট: ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি

বিশ্বব্যাংকের আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকার যানজটের কারণে প্রতিদিন প্রায় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানীর ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিয়মিত যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যানজটের প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়ছে।

যানজট শুল্ক আদায়ের জন্য আধুনিক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সড়কে আরএফআইডি রিডার স্থাপন করা হবে এবং যানবাহনের ট্যাগ শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুল্ক আদায় করা হবে।

এই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকির দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণে কনজেশন চার্জ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। তবে ঢাকায় এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর আগে নিরাপদ, সময়নিষ্ঠ ও পর্যাপ্ত গণপরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ যাত্রীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে এটি ইউআরএসটিপির একটি খসড়া সুপারিশ। সরকারের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।