৬ দশক পর শিকড়ের টানে কেন্দুয়ায় বেলা দত্ত, কাশফুলের শুভ্রতায় মাতালেন সাহিত্য আসর

Shahrier Islam Pallab
নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:২২ অপরাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩০ পূর্বাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘের ভেলা আর মাঠজুড়ে দোল খাওয়া কাশফুলের শুভ্রতাকে ঘিরে সাহিত্য, স্মৃতি ও সংস্কৃতির এক আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হলো নেত্রকোণার কেন্দুয়া। ‘কাশফুলের শুভ্রতা ও শরৎ কথা’ শীর্ষক সাহিত্য সভায় উঠে এল বাংলা সাহিত্য, লোকজ ঐতিহ্য ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের নানা অনুষঙ্গ। আর এ আয়োজনে বিশেষ আবেগের মাত্রা যোগ করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের গল্পকার ও রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী বেলা দত্ত। বাংলাদেশের মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির টানে দীর্ঘ ৬০ বছর পর কেন্দুয়ায় ফিরে আসার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেন্দুয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সাহিত্য সভার আয়োজন করে কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসর।

আরও পড়ুন: মোহনগঞ্জে পুকুরে ডুবে একই বাড়ির দুই শিশুর মৃত্যু

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন বেলা দত্ত। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কবি ও চারণ সাংবাদিক এবং উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা এবং বাংলা একাডেমির লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও কবি আবুল বাসার তালুকদার।

ঐতিহ্যবাহী কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি ও সাংবাদিক কোহিনূর আলম।

আরও পড়ুন: কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে শয্যা হবে এক হাজার: কৃষিমন্ত্রী

আলোচনায় বক্তারা বলেন, শরৎ কেবল প্রকৃতির ঋতুবদলের নাম নয়; বাঙালির কবিতা, গান, গল্প, প্রেম, স্মৃতি ও সৃজনশীলতার সঙ্গেও এ ঋতুর রয়েছে গভীর সম্পর্ক। কাশফুলের শুভ্রতা, নীল আকাশ ও সাদা মেঘের সৌন্দর্য যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিকদের ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে। সাহিত্য ও শিল্পের মধ্য দিয়ে প্রকৃতিকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার পাশাপাশি স্থানীয় লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণেও সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রধান আলোচক বেলা দত্ত বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, এ দেশের মাটি, মানুষ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির টানেই ৬০ বছর পর তিনি বাংলাদেশে, বিশেষ করে কেন্দুয়ায় ছুটে এসেছেন। বাংলাদেশের আলো-বাতাসে ঘেরা শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ফেলে আসা দিনের নস্টালজিয়া ও বাংলাদেশের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও পালা নাট্যকার রাখাল বিশ্বাস, উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা হাবুল, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মো. শাহাবুল কবীর ভূঞা, কবি ও সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার, চিন্তাজগৎ মানবিক কল্যাণ কেন্দ্রের সভাপতি মো. শাহ আলম তালুকদার, কবি ও সাংবাদিক রুকন উদ্দিন এবং কবি মঞ্জুররা আক্তার লিলিসহ স্থানীয় কবি, শিল্পী, গীতিকার, সাংবাদিক ও সাহিত্য-সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।

তাঁদের অংশগ্রহণে সাহিত্য সভাটি হয়ে ওঠে ভাবনা, অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক প্রাণবন্ত পরিসর। আলোচনা শেষে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন বেলা দত্ত।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের সাপ্তাহিক এ আয়োজনে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যপ্রেমীদের নিয়মিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের ধারাবাহিক সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরার পথ আরও সুগম হবে।