গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে অচল মহাসড়ক, তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
গাজীপুর মহানগরীর মালেকের বাড়ি এলাকায় টিএনজেড গ্রুপের শ্রমিকরা আজও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের তৈরি হয়েছে। রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল ৯ টা থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন টি অ্যান্ড জেড অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। গতকালও সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন তারা।
অবরোধের কারণে টঙ্গীর কলেজ গেট থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হোতাপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই পায়ে হেঁটে ও বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে দূরপাল্লার যাত্রীরা।
আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন
জানা গেছে, মহানগরীর মালেকের বাড়ি এলাকায় অবস্থিত টি অ্যান্ড জেড অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন বকেয়া আছে। তিন মাস ধরেই বেতন দাবি করলে কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপণ করছে। ২৮ অক্টোবর শ্রমিকেরা আন্দোলন করলে শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করেন। তখন পুলিশ জানায়, নভেম্বরের ৩ তারিখ বেতন পরিশোধ করা হবে। সেই দিন শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ৫ নভেম্বর আবার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করলে শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এ বিষয়ে সমাধান করার আশ্বাস দিলে তাঁরা ফিরে যান। তবে মাসের ৯ তারিখ হয়ে গেলেও শ্রমিকেরা বেতন পাননি। তাছাড়া, কারখানা বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ আছে। এসব কারণে আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তারা।
শ্রমিকরা বলছেন, আমরা বেতন পাই, এটা আমাদের নায্য দাবি। গতকাল থেকেই আমরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছি। বেতন না নিয়ে বাসায় ফিরবো না। আমাদের ঘরভাড়া বাকি, দোকানে বাকি। বেতন না পেলে আমরা কোনোভাবেই চলতে পারছি না। মালিক কোথায় রয়েছে এটা আমাদের দেখার বিষয় না, আমাদের বেতন দরকার।
আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে এমপি মান্নানের লিফলেট বিতরণ
টি অ্যান্ড জেড অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানাটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এবিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) ইব্রাহিম হোসেন, তিন মাসের বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা আজও মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছি।





