৩ লাখের বেশি পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, কোথাও সিট খালি নাই

Sanchoy Biswas
কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ২:২৯ অপরাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ | আপডেট: ৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, ২২ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

এক মাস সিয়াম সাধনার পর টানা ঈদের ছুটিতে জমে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। ৩ লাখেরও বেশি পর্যটকে ভরপুর জেলার সব পর্যটন স্পট। পর্যটকে ভরে গেছে হোটেল-মোটেলসহ প্রায় সব রিসোর্ট। পুরো শহরজুড়ে কোথাও কোন সিট বা রুম খালি নাই। 

জোমাবার (৪ এপ্রিল) সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন পর এবার ঈদের প্রথম দিন পর্যটক কম এলেও গত দুই দিন বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে কক্সবাজারে। পর্যটকের সমাগমে মুখর সমুদ্রসৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলো। শহরের কলাতলীসহ মেরিন ড্রাইভে দীর্ঘ লাইনের যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার ট্যুরিষ্ট পুলিশ জানিয়েছেন আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বরাবরের মতোই বিশেষ ব্যবস্থা। সমুদ্রসৈকত ছাড়াও ইনানি, হিমছড়ি, পাটুয়ারটেক, টেকনাফ, মাতিনের কূপ, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ও বৌদ্ধমন্দির, রামুর বৌদ্ধমন্দির, সাফারি পার্কসহ পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা।

আরও পড়ুন: কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীদের খাবার খেয়ে যাচাই করেন

টাঙ্গাইল থেকে আসা রিমা ও তার স্বামী মুহাম্মদ বলেন, সকালে গরম থাকায় বিকেলে তারা সৈকতে নেমেছেন। কক্সবাজার এসে আমরা খুশি। তবে যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার কক্সবাজারে। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা আয়েশা ফারুকী (২৫) বলেন, ছুটির দিনে পর্যটকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় হোটেলের রুম ভাড়ায় তেমন ছাড় মেলেনি। রেস্তোরাঁসহ সবখানেই ভিড়। তাই দামের ক্ষেত্রে কেউ ছাড় দিচ্ছেন না। 

রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক সোহেল বলেন, অনেকদিন পর এবার কক্সবাজার আসলাম ট্রেনে, ভালোই লেগেছে। উন্মুক্ত আকাশের নিচে সাগরের ঢেউয়ে মন ভরে গেছে।

আরও পড়ুন: শ্রীপুরে ঈদ আনন্দে মুখর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে জমজমাট বিনোদন মেলা

কক্সবাজার পর্যটন শিল্প উদ্যোক্তা টিটু বলেন, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল চালু থাকলে আরও দ্বিগুণ পর্যটক আসত। কক্সবাজার পর্যটন শিল্প নিয়ে আরও ভালো মাস্টার প্ল্যান দরকার। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, একমাস পর ঈদের ছুটির দিনগুলোতে কক্সবাজারে বিপুল পর্যটকের আগমন ঘটেছে। আশা করি সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো হবে।

কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পর্যটকবাহী কয়েক হাজার বিভিন্ন যানবাহন শহরে অবস্থান করায় কলাতলী ডলফিন মোড়, বাইপাস সড়ক, প্রধান সড়কের বাজারঘাটে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট নিরসনে কাজ করছেন অর্ধশতাধিক পুলিশ। ইতোমধ্যে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ছুটির দিনগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয় ট্যুরিস্ট পুলিশের। নিয়মিত টহল ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ফোর্স ডিউটি করছে। রাতেও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলো নিরাপত্তার আওতায় থাকছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটির দিনগুলোতে পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পর্যটকরা যাতে কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযোগ কেন্দ্র খোলা হয়েছে।