ঐতিহাসিক নির্বাচনী জনসভায়
বগুড়ার মাটিতে ১৯ বছর পর তারেক রহমান
বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথার পাশেই ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভা মঞ্চে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের উত্তরাঞ্চল সফরের প্রথম দিন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান।
উক্ত মঞ্চে উপস্থিত হয়েই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রয়াত স্ত্রী ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি আতাউল্লাহ নিজামি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযান চালাতেই তিনি এ উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার, আটক ৩
তিনি এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে ঢাকার একটি বিশেষ ফ্লাইটে রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারেক রহমান। পরে তিনি হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
পরে তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নওগাঁর জনসভায় ভাষণ দেন। এরপর রাত ৮টার দিকে তিনি নওগাঁ থেকে সড়ক পথে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আসার পথে ৬০ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে অগণিত নারী-পুরুষ তাকে অভিবাদন জানান। পথে পথে জানানো হয় ফুলেল শুভেচ্ছা। জনস্রোতের কারণে ভিড় ঠেলে তারেক রহমানের বহনকারী গাড়িবহরকে এগোতে হয় ধীরগতিতে। ফলে তাকে বগুড়া শহরে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা। রাত গভীর হলেও হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক বিকেল থেকেই ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অপেক্ষা করতে থাকেন প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য।
আরও পড়ুন: শ্যামপুরে হাসিনা রওশন জাহানের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতির অভিযোগ
এদিকে জনসভাকে ঘিরে রাতের আঁধার কাটিয়ে আলো ঝলমল হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ। কানায় কানায় পূর্ণ স্লোগানমুখর মাঠে প্রতীক্ষায় ছিল মানুষ। তবে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে ও দেখতে সমাবেশস্থল থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মিছিলে মিছিলে ভরপুর হয়ে ওঠে বগুড়া শহর। দুপুর থেকেই বগুড়ার বিভিন্ন পৌরসভা ও উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মাঠে জড়ো হতে থাকেন।
এতে মানুষের ঢলে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে ও তার বক্তব্য শুনতে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানসহ মিছিল নিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করেন। সংসদ সদস্য প্রার্থীদের বড় বহর মাঠে প্রবেশ করলে উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেকেই তার বক্তব্য শুনতে ও দেখতে মাইক ও ডিজিটাল পর্দার সামনে এবং বাড়ির ছাদে অবস্থান নেন।
এ সময় শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা আবদুল বারিক আক্ষেপ করে বলেন, ‘এত কষ্ট করে আসলাম তারেক রহমানকে দেখতে, কিন্তু মাঠে জায়গা পেলাম না। তাই সাতমাথায় দাঁড়িয়ে আছি মাইকের সামনে, উনার কথা শোনার জন্য।’
অপরদিকে মঞ্চের সামনে বসে থাকা নিশ্চিন্তপুরের হযরত আলী বলেন, ‘সকাল থেকেই বসে আছি। জায়গা ছাড়িনি। সামনাসামনি বসে তারেক রহমানকে দেখব বলে।’
এদিকে উক্ত সমাবেশ শুরু হতে রাতে হলেও বিকেল থেকেই বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।





