কাশিয়ানীতে শংকর তহসিলদারের অনুমতিতে চলছে অবৈধ মাটি উত্তোলন ও বিক্রি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার তিলছাড়া এলাকায় ওড়াকান্দি তহসিলদারের অনুমতির কথা বলে প্রকাশ্যে মাটি কাটা ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ভেকু (খননযন্ত্র) ব্যবহার করে জমি থেকে মাটি উত্তোলন করে অবৈধ ট্র্যাক্টর-ট্রলি গাড়ির মাধ্যমে তা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরে এলাকায় দিন-রাত মাটি কাটার কাজ চলছে। ভারী যন্ত্রের শব্দ ও ট্রলির যাতায়াতে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতভিটার স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন
মাটি কাটার কাজে যুক্ত আলামিন নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “তহসিলদার স্যার নিজে এখানে এসেছিলেন। তাঁর অনুমতি নিয়েই আমরা মাটি কাটছি। কোনো অবৈধ কাজ করছি না।”
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় তহসিলদার শংকর কুমার বাড়ৈ সরেজমিনে এসে মাটি কাটার অনুমতি দিয়েছেন। যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষিজমি বা অন্য কোনো ভূমি থেকে বাণিজ্যিকভাবে মাটি উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্দিষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুসারে যথাযথ অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম বেআইনি।
আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে এমপি মান্নানের লিফলেট বিতরণ
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এলাকায় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই মাটি ব্যবসা চলছে। প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে দিন দিন তা বাড়ছে।” তারা আরও বলেন, অবাধে মাটি কাটার ফলে বৃষ্টির সময় ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও রাস্তা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অতীতে এমন ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় দুর্ঘটনার নজির রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহিন মিয়া বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অভিযুক্ত তহসিলদার শংকর কুমার বাড়ৈয়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ভূমি ও পরিবেশ-সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান না থাকলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা কঠিন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলছেন, আবার কেউ প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন। এখন দেখার বিষয়—অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেয়।





