সিংগাইরে মাটি কাটা বাধা দেয়ায় থানায় মিথ্যা চুরির অভিযোগ

Sanchoy Biswas
হাবিবুর রহমান, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ন, ০৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, ০৭ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটায় বাধা দেয়ায় মিথ্যা চুরির অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত সেলু মেশিন চুরির মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগটি করেন পার্শ্ববর্তী লক্ষীপুর গ্রামের আনসার দেওয়ানের ছেলে ও মাটি ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের দুলাল পাল (৫০), নাছির পাল (৫৫), কারিম মোল্লা (২৮), পান্নু মোল্লা (৫০) ও রবিন (৩২)-এর বিরুদ্ধে ওই চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন: ফেনীর নবাবপুরের ফতেহপুরে ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির ইফতার

শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, চুরির অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটায় বাধা দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেশী ওহাব মিয়া বলেন, শুরু থেকেই দুলাল এখানকার মাটি কাটতে নিষেধ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাটি কাটা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুলালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শ্রীপুরে ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিক নিহত, স্বামী পলাতক

স্থানীয় সাইফুল হোসেন বলেন, যারা মাটি কাটছেন তারা প্রায়ই মেশিনসহ প্রয়োজনীয় জিনিস বারবার আনা-নেওয়া করেন। এই মেশিন নিজেরা সরিয়ে একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী দুলাল পাল অভিযোগ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী লক্ষীপুর গ্রামের আনসার দেওয়ানের ছেলে ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রাসেল মিয়া তার বাবার কাছ থেকে তিন ফসলি জমির মাটি কিনে নেন এবং সেখানে ভেকু বসিয়ে মাটি কাটা শুরু করেন। মাটি বহনকারী ট্রাক তার জমির ওপর দিয়ে চলাচল করায় জমি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে তিনি মাটি কাটায় বাধা দেন। তিনি আরও বলেন, মাটি কাটতে বাধা দেয়ায় তাকে রামদা দেখিয়ে প্রথমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাটি কাটা বন্ধ হলেও সেই ক্ষোভ থেকেই এখন রাসেল তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছেন।

রাসেল মিয়া ১ দিন মাটি কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, মাটি কাটা এসিল্যান্ড বন্ধ করেনি, নায়েব বন্ধ করেছে। পরে আমি অন্যত্র মাটি বিক্রি করেছি। আমার সেচ দেওয়া সেলু মেশিন দুলাল গং চুরি করেছে বলে তার দাবি।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাহিদা বলেন, “আমি তদন্তে গিয়ে অভিযুক্তরা চুরি করেছে এ রকম দেখা সাক্ষী পাইনি। তবে রবিন নামের একটি ছেলে আমাকে ফোন করে জানিয়েছে সেলু মেশিন পাওয়া গেছে। বাদী আমাকে কিছু জানায়নি।”