সিদ্ধিরগঞ্জে বালুর ঘাট দখল নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে বালুর লোড-আনলোড ঘাটের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে কাঁচপুর সেতু সংলগ্ন শিমরাইল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: বৃষ্টিভেজা সিলেটে তারেক-জুবাইদার নির্ভার মুহূর্ত, প্রশংসায় ভাসছে
খবর পেয়ে র্যাব-১১ এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিপ্লব নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের বালুর ঘাটটির ইজারাদার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান পলিন। ২০২১ সালে ইজারার মেয়াদ শেষ হলে তিনি উচ্চ আদালতে মামলা করেন। মামলা চলমান থাকায় নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ নতুন করে কাউকে ইজারা দিতে পারেনি।
আরও পড়ুন: শেরপুরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন
এতে দীর্ঘদিন ধরে ঘাটটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পলিন এলাকা ছেড়ে গেলে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিনের ছেলে কায়সার রিফাত ঘাটটির নিয়ন্ত্রণ নেন।
পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও তার লোকজন স্বেচ্ছায় ঘাটটি ছেড়ে দেন। এ অবস্থায় বুধবার দুপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের পক্ষের লোকজন ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে গেলে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, পলাতক ইজারাদার মাহমুদুল হাসান পলিন তার প্রতিনিধির মাধ্যমে ঘাটটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ছোট ভাই রাসেল মাহমুদকে সাব-ইজারাদার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার দুপুরে রাসেল মাহমুদ ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে গেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে জহির, নূর হোসেন, নজরুল ও জিয়াসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন সরকার অভিযোগ করেন, সাত খুন মামলার আসামি নূর হোসেনের ভাই ও আত্মীয়দের সঙ্গে যোগসাজশ করে নদীর পাড়ের বালু-পাথরের ঘাট দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “সরকারি সম্পদ কেউ দখল করতে পারে না। যে কেউ বৈধ কাগজপত্র ও সরকারি ফি প্রদান করে ব্যবসা করলে সেখানে বাধা দেওয়াটাই মূলত দখলদারির শামিল।”
নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি নথি অনুযায়ী ঘাটটির ইজারাদার মাহমুদুল হাসান পলিন। তার করা মামলা বিচারাধীন থাকায় নতুন করে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। তবে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পলিনের মনোনীত প্রতিনিধি মাসিক পে-অর্ডারের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব জমা দিয়ে ঘাট পরিচালনা করছেন। রাসেল মাহমুদকে তিনি তার প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, নদীর পাড়ের বালু ও পাথরের ঘাটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একটি পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





