কুমিল্লায় হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

Sadek Ali
মো. মাসুদ রানা, কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ন, ১২ মে ২০২৬ | আপডেট: ১:৩৫ অপরাহ্ন, ১২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মানিককান্দি গ্রামে যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম মোল্লা হত্যা মামলার আসামি মো. আবদুল লতিফ ভূঁইয়াকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার মানিককান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত লতিফ ভূঁইয়া ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম মোল্লা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন। পাঁচ মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন।

আরও পড়ুন: শ্যামনগরে ১৪৭তম ঐতিহাসিক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

সোমবার রাতে তিনি নিহত যুবলীগ নেতা জহিরুলের জ্যাঠাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

খবর পেয়ে তিতাস থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লতিফ ভূঁইয়াকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে পুলিশি পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত পৌনে দুইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে গোয়ালঘরে আগুন : লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল হক জানান, নিহত লতিফ ভূঁইয়ার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি যুবলীগ নেতা জহিরুল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মৎস্য প্রকল্পে আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় লতিফ ভূঁইয়া গ্রেপ্তার হয়ে পাঁচ মাস কারাগারে ছিলেন। জামিনে বের হয়ে আবারও প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করতে গিয়ে নিজেই গণপিটুনির শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।