রামিছা হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও মোমবাতি প্রজ্বলন: দ্রুত ফাঁসির দাবি

Sanchoy Biswas
রিদুয়ান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১০:৫০ অপরাহ্ন, ২১ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:২২ পূর্বাহ্ন, ২২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশব্যাপী চলমান ধর্ষণ ও নির্মম হত্যার প্রতিবাদে এবং অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন, মৌন মিছিল ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বিকাল ৫:৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সংলগ্ন জামালখান চত্বরে ছাত্র-জনতার উদ্যোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বক্তারা দেশে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বিভাগীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, চট্টগ্রাম জেলার আহ্বায়ক সালমান শামীম বলেন, "দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে। আমাদের দাবি একটাই—প্রমাণ সাপেক্ষে একজন ধর্ষককে কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।"

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রিদুয়ান সিদ্দিকি ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "আমরা ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ চেয়েছি, যেখানে আমাদের মা-বোনেরা নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারবে। কিন্তু আজকের পরিস্থিতি আমাদের আশাহত করেছে। ৫ই আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত হওয়া প্রতিটি ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।"

আরও পড়ুন: গাজীপুর জেলা পরিষদ ৮০ জন নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রামের মুখ্য সমন্বয়ক তাওহিদ আলিফ বলেন, "ধর্ষক যেভাবে ধর্ষণের পর অপরাধ ঢাকতে রামিছাকে হত্যা করেছে, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশ থেকে ধর্ষণ নির্মূল করতে ধর্ষককে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলাতে হবে। অতীতে কঠোর আইনের কারণে যেভাবে এসিড নিক্ষেপ দমন করা সম্ভব হয়েছিল, ঠিক একইভাবে সরকার বাহাদুরকে একজন ধর্ষকের ফাঁসি কার্যকর করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। যাতে আর কোনো অপরাধী এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।"

বে অব বেঙ্গল পিপলস নেটওয়ার্কের (বিপিএন) মুখপাত্র চৌধুরী সিয়াম ইলাহী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও উনার সরকারকে বলতে চাই—জনগণকে যেভাবে ফ্যামিলি কার্ড, এলপিজি কার্ড বা কৃষক কার্ড দেওয়া হচ্ছে, তেমনি এই মুহূর্তে জনগণের জন্য 'নিরাপত্তা কার্ড' তথা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনগণের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারলে সরকারের পদে থাকার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।"

রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রসভার কেন্দ্রীয় সংগঠক নূরে আবরার রাজিন বলেন, "নিহত রামিসার বাবার বক্তব্যের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়েছে যে, এদেশের সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ন্যূনতম আস্থাও হারিয়ে ফেলেছেন। যখন একটি দেশের নাগরিকরা বিচার চাওয়া অর্থহীন মনে করেন এবং প্রশাসনের ব্যর্থতাকে স্বাভাবিক ধরে নেন, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্র ধীরে ধীরে তার বৈধতা হারাচ্ছে।"

আইনজীবীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ব্ল্যাক টু ব্লু সোসাইটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসান নিফাজ বলেন, "মামলায় ভিকটিম রামিসার বিপক্ষে যে আইনজীবী লড়বেন, আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজনে আদালত প্রাঙ্গণ ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"

প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে একটি মৌন মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জামালখান চত্বরে এসে শেষ হয়। এরপর অংশগ্রহণকারীরা মোমবাতি প্রজ্বলন করে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।