তোফায়েল আহমেদকে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন, ভোলায় শেষ জানাজা সম্পন্ন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:০৩ অপরাহ্ন, ০২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:০৩ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ভোলা-১ ও ভোলা-২ আসনের একাধিকবারের সাবেক সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির সামনে তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে বাবা আজাহার আলী, মা ফাতেমা খানম এবং স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিপুল ব্যবধানে ধানের শীষের জয়

তোফায়েল আহমেদের জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোলা সদর উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জানাজায় তার স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

আরও পড়ুন: পাবনায় বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু, আহত ২

এর আগে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল থেকে হেলিকপ্টারে তার মরদেহ ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডে আনা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হলে সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এরপর মরদেহ কোড়ালিয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তোফায়েল আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পক্ষাঘাতসহ বিভিন্ন জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তিনি সিসিইউ ও পরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাজনীতির পাশাপাশি তোফায়েল আহমেদ ছিলেন জনবান্ধব নেতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়। ভোলার উন্নয়নেও তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তারা আরও বলেন, তার মৃত্যু ভোলাবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। জানাজা শেষে কবরের পাশে একমুঠো মাটি দিতে পারাকে তারা সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর সাবেক ভিপি ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।