উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে

Sadek Ali
মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৩১ অপরাহ্ন, ২৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩১ অপরাহ্ন, ২৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পানি ফের বৃদ্ধি পেয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। কয়েকদিন ধরে পানির লাগাতার ওঠানামায় নদী তীরবর্তী চর ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যদিও এখনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে পানি আরও বাড়লে বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। উজানের ঢলের প্রভাবে পানির এ আকস্মিক বৃদ্ধি তিস্তার ভাটিতে থাকা হাজারো মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় আ.লীগের ৫ নেতাকর্মী গ্রেফতার

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। পরে দুপুর ১২টায় তা আরও কমে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে নেমে যায়। তবে বিকেলের দিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিকেল ৩টায় বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করছে। কখনো পানি কমে স্বস্তি মিলছে, আবার কয়েক ঘণ্টা পরই বাড়তে শুরু করছে। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও নিম্নভূমিতে বসবাসকারী পরিবারগুলো সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আরও পড়ুন: বড়লেখায় কমিউনিটি সেন্টারের তালা ভেঙে দুঃসাহসিক চুরি, চোর গ্রেফতার

তিস্তা পাড়ের অনেক বাসিন্দা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের জীবন-জীবিকায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পানি বৃদ্ধি পেলে প্রথমে ডুবে যায় নিচু এলাকার রাস্তা, এরপর বসতভিটা ও আবাদি জমি। তাই নদীর পানির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন।

তবে কৃষকদের জন্য আপাতত কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। বর্তমানে তিস্তার চরাঞ্চলে মৌসুমি ফসলের আবাদ তুলনামূলক কম থাকায় তাৎক্ষণিক বড় ধরনের কৃষি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তারপরও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে গবাদিপশু, বসতবাড়ি ও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আবহাওয়া ও উজানের পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অথবা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, “তিস্তা নদীর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উজানের পানির প্রবাহের কারণে নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। নদীর পানি আরও বাড়লে যাতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়, সে লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিস্তার পানির এমন অস্বাভাবিক আচরণে এখন নদীপাড়ের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—পানি যেন আর না বাড়ে এবং নতুন কোনো দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে না হয়।