চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর হাত-পা ভেঙে দিলেন শ্রমিক দল নেতা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪২ পূর্বাহ্ন, ২৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২:৪২ অপরাহ্ন, ২৫ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনার বেড়ায় তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর ও হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা রিপন সরদার ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার দুপুরে বেড়া সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার (২৪ জুন) বেড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

আহত মিজানুর রহমান বেড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনজেল খানের ছেলে। তিনি এলাকায় হোটেল ও গাড়ির ব্যবসা পরিচালনা করেন। অভিযুক্ত রিপন সরদার (৩৫) সাঁথিয়া উপজেলার করমজা সরদারপাড়া গ্রামের পাশা সরদারের ছেলে এবং সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেড়া পৌরসভার সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মিজানুর রহমান ও তার ভাই গোলাম মোস্তফা একটি মার্কেট নির্মাণ করছেন। গত ১৯ জুন শ্রমিক দল নেতা রিপন সরদার তার সহযোগীদের নিয়ে সেখানে গিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে এমপি মান্নানের লিফলেট বিতরণ

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিপন সরদার ও তার সহযোগীরা মোটরসাইকেলযোগে এসে মিজানুর রহমানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে সাঁথিয়া উপজেলার করমজা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মহরম সরদারের কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, সেখানে তাকে লোহার রড ও পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর আহতের ভাই গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে রিপন সরদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বেড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও অভিযুক্তরা তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। সে সময় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে একটি মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল। এরপর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সম্প্রতি আবারও চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে।

তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিপন সরদার। তিনি দাবি করেন, পূর্বের অভিযোগেরও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে মারধরের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে তিনি বলেন, তার লোকজন ওই ব্যবসায়ীকে ‘দুই-একটা বাড়ি’ দিয়েছে।

বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার বলেন, ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে মারধরের ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।