গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ ১১ টুকরা, মাথা-পা উদ্ধার হয়নি

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৬ অপরাহ্ন, ০৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১:১৬ অপরাহ্ন, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সকাল থেকে নিখোঁজ এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ টুকরা করে ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে ভরে বস্তাবন্দী করে ঘরের পেছনে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লাইলী বেগম (৩৫) নামে এক ভাড়াটিয়াকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় দেবিদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: গাজীপুর সদর উপজেলায় জালিয়াতির মাধ্যমে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি খারিজের অভিযোগ, মামলা বিচারাধীন

নিহত ফরিদা বেগম (৫৫) ওই বাড়ির মালিক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার (৬৫) স্ত্রী। মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বেগম বাড়িতে একাই থাকতেন। বাড়ির একটি ঘর লাইলী বেগমের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে মোহনা আবাসিক এলাকায় বাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করেন ফরিদা বেগম ও তার পরিবার। ফরিদার দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সমাপনী

শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। স্বজনদের ভাষ্য, ডায়াবেটিসের কারণে ফরিদা বেগম নিয়মিত হাঁটতে বের হতেন। তাই সকালে তাকে বাড়িতে না পেয়ে প্রথমে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ নেওয়া হয়। পরে এলাকায় মাইকিংও করা হয়।

স্বজনদের দাবি, নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি। এর মধ্যে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। পরে সেগুলোর মধ্যে ফরিদার খণ্ডিত মরদেহ রয়েছে বলে শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে মরদেহটি টুকরা করে ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে রাখা হয়। পরে প্যাকেটগুলো বস্তায় ভরে ঘরের পেছনে ফেলে রাখা হয়।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ফরিদা বেগমের বাসার ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও বিক্ষুব্ধ লোকজন অবস্থান নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে লাইলীকে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, লাইলী বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ সময় তিনি তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমনসহ আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহের কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ওসি আরও বলেন, আটক লাইলী বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ।