সমতার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে অতীতের মতপার্থক্য পেছনে ফেলে নতুন সূচনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ভারতকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: হাদির হত্যা মামলার আসামি ও শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের আহ্বান
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন দিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। তাই অতীতকে পেছনে ফেলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে একটি ‘ফ্রেশ স্টার্ট’ প্রয়োজন। দুই দেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য বা ইস্যু রয়েছে, তবে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান সম্ভব।
আরও পড়ুন: চুপ্পু-এস আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
তিনি বলেন, সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে। এ বিষয়ে ভারতকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশ শুধু ভৌগোলিক সীমানাই ভাগাভাগি করে না, সমৃদ্ধির স্বপ্নও ভাগাভাগি করে।
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিভিন্ন ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, ইস্যু থাকাটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে দুই দেশের জনগণের মূল প্রত্যাশা একটি সুদৃঢ় ও চমৎকার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা, যা উভয় দেশের জন্য কল্যাণকর ‘উইন-উইন’ পরিবেশ তৈরি করবে।
দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, আলোচনা ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা যাবে না—বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এমন কোনো জটিল ইস্যু নেই। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় ও প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত চিহ্নিত পলাতক অপরাধীদের বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি করার লক্ষ্যে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ ছাড়া শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদেরও এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।
জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, বিষয়গুলো ভারতীয় পক্ষ আইনগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ভারতীয় হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





