ময়মনসিংহের যৌনপল্লীর সর্দানী লাভলীর বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ ও নানা অপরাধের অভিযোগ
ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গিনারপাড় এলাকার যৌনপল্লীর প্রভাবশালী সর্দানী হিসেবে পরিচিত লাভলী বেগমের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া, মানবপাচার, মাদক ব্যবসা, অবৈধ সুদের কারবার এবং যৌনকর্মীদের ওপর নির্যাতনের নানা অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যৌনপল্লীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন।
আরও পড়ুন: সাভারে পরপর বোমাসদৃশ বস্তু ও বিস্ফোরক উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা
অভিযোগ রয়েছে, লাভলী বেগম ‘শুকতারা’ নামে একটি সংগঠনের স্বঘোষিত সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের দেহব্যবসায় জড়িত করা, মাদক ও অবৈধ মদ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং নারী পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদল নেতার মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, লাভলীর নামে ও বেনামে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, পরিবহন ব্যবসা এবং মূল্যবান সম্পদ রয়েছে।
তার আয়ের উৎস ও সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নগরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন, তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তার মালিকানায় বা নিয়ন্ত্রণে একাধিক বাড়ি, দোকানঘর ও পরিবহন ব্যবসা রয়েছে। এছাড়া অবৈধ সুদের ব্যবসার মাধ্যমেও তিনি বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে তার হিসাব পরিচালনার কথাও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, যৌনপল্লীতে নতুন নারী বা কিশোরী যুক্ত করার ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং এর সঙ্গে লাভলীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ভৈরব থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলায় লাভলী বেগমের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানায়ও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং ভৈরব থানার মামলার অনুসন্ধান-সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হয়েছে।
লাভলী বেগম শহর ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে আছেন বলে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
সচেতন মহল দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), আয়কর বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।





