হাওরে অবৈধ বালু উত্তোলনে ভাঙ্গছে নদীতীর, বাড়ছে আতঙ্ক

Sadek Ali
‎‎এম.এ. কিবরিয়া, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, ১২ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৬ অপরাহ্ন, ১২ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের নদীগুলো থেকে একশ্রেণীর প্রভাবশালী অসাধু চক্রের অবিরত অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়েছে বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকা। নদীর নাব্য রক্ষা ও উন্নয়নমূলক কাজের দোহাই দিয়ে কিংবা প্রশাসনিক চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন তোলা হচ্ছে লাখ লাখ ঘনফুট বালু। এর ফলে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও কৃষিজমি, অন্যদিকে ভিটামাটি হারানোর চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো হাওরবাসী।

‎বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, নিকলী, ইটনা, মিঠামইন, অস্টগ্রাম ও বাজিতপুর উপজেলার প্রধান প্রধান নদী- যেমন কালনী, ধনু, ঘোড়াউত্রা ও মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাওয়ার ড্রেজার ও বাংলা ড্রেজার ব্যবহার করে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণে নদীতীরের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং হাজার হাজার একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহের যৌনপল্লীর সর্দানী লাভলীর বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ ও নানা অপরাধের অভিযোগ

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বালুখেকো চক্রটি অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে নানাভাবে হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নিকলী ও ইটনার একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই নদীভাঙনের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ড্রেজার চলায় নদীর তীরের মাটি আলগা হয়ে ধসে পড়ছে। রাত হলেই বালু উত্তোলনের তাণ্ডব আরো বেড়ে যায়, যার শব্দে ঘুমানোও দায় হয়ে পড়েছে।

‎পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওরের নদীগুলোতে অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে বর্ষায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। নদীপাড়ের প্রতিরক্ষামূলক বাঁধগুলোও ভাঙনের মুখে পড়ছে, যা সরকারের শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

আরও পড়ুন: সাভারে পরপর বোমাসদৃশ বস্তু ও বিস্ফোরক উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

‎এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার চলাচল বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

‎‎যোগাযোগ করা হলে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন 'বাংলাবাজার পত্রিকা'কে বলেন, "অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেখানেই অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই ড্রেজার জব্দসহ জরিমানা করা হচ্ছে। হাওর এলাকা ও পরিবেশ রক্ষায় বালুখেকোদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে৷"