চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, নিহত ৭
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জনের বেশি শ্রমিক। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থিত শিপইয়ার্ডটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: হাওরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় ‘দিগন্ত মেগা শপ’, গ্রামীণ জনপদে শহরের ছোঁয়া
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম জানান, শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পরবর্তী সময়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনায় ১০ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে একটি পুরোনো জাহাজ কাটার কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে জাহাজের ভেতরে থাকা কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ ও আহত হন। পরে সহকর্মী, স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
আরও পড়ুন: রান্নাঘর থেকে ফিলিং স্টেশন, কুমিল্লায় তীব্র গ্যাস সংকট
আহত শ্রমিকদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, পুরোনো জাহাজ কাটার কাজ চলার মধ্যেই হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজের ভেতরে জমে থাকা দাহ্য গ্যাস বা বাষ্প থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হতে পারে। জাহাজ কাটার আগে সেটি গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কি না, ট্যাংক ও পাইপলাইনে গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না এবং শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে অতীতেও অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে শ্রমিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর পুরোনো জাহাজ কাটার আগে গ্যাস পরীক্ষা, গ্যাসমুক্ত সনদ, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
নিহত শ্রমিকদের পরিচয় ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।





