আগাম শিম চাষে ব্যস্ত কালীগঞ্জের কৃষক, মিলছে ভালো দাম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আগাম জাতের রূপবান শিম চাষে লাভবান হয়েছেন শতাধিক কৃষক। শিমের আশানুরূপ ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় খুশি তারা। ইতোমধ্যে উপজেলার হাট–বাজার দখল করে নিয়েছে রূপবান শিম।ফলনের প্রথম পর্যায়েই কৃষকেরা আবাদ খরচ তুলে লাভের দেখা পেয়েছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে সিমের চাষ হয়ে থাকে। উপজেলার বারোবাজার, কাষ্টভাঙ্গা, রাখালগাছি, ত্রিলোচনপুর, সিমলা-রোকনপুর, মালিয়াট, রায়গ্রাম ও নিয়ামতপুর ইউনিয়নসহ অধিকাংশ ইউনিয়নের কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে সিম চাষ করে আসছেন।
আরও পড়ুন: জৈন্তাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, বোমা মেশিন ও ১২ বারকি নৌকা জব্দ
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বারোবাজার কাস্টভাঙ্গা রাখালগাছি ইউনিয়নে আগাম শিম চাষ বেশি হয়ে থাকে কাস্টভাঙ্গা ইউনিয়নে আগাম জাত ২০ হেক্টর বারোবাজার ইউনিয়নে ১০ হেক্টর রাখালগাছি ইউনিয়নে ১০ হেক্টর আগাম শিম চাষ রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের কাছে সিম চাষ একটি লাভজনক সবজি আবাদ হিসেবে পরিচিত। অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে এসব এলাকায় প্রতিবছরই সিমের আবাদ বাড়ছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উৎপাদিত সিম দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছেন কৃষকরা।
আরও পড়ুন: সরকারী খাল উদ্ধারে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ভরাট বালু নিলামে বিক্রি
এদিকে মৌসুমের শুরুতেই শিম কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৬৫ হেক্টর জমিতে ইপসা –২ আগাম জাতের রূপবান শিমের চাষ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সিম চাষ করা হয়েছে।সরেজমিন দেখা যায়, জমিতে শিমগাছের লতা ফুলে ফুলে ভরে রয়েছে। সেই সঙ্গে থোকায় থোকায় ঝুলছে শিম।
কৃষকদের জমিতে পরিচর্যার পাশাপাশি বাজারে বিক্রির জন্য শিম তুলতে দেখা গেছে। এদিকে ফুল ও তাজা শিমের থোকা পথচারীদেরও মুগ্ধ করছে।বারোবাজার ইউনিয়নের মহিষাহাটী গ্রামের কৃষক শাখায়ত হোসেন বলেন, আগাম জাতের এ রূপবান শিম বৈশাখ–জ্যৈষ্ঠ মাসে লাগানো হয়। ভাদ্র মাসে গাছে ফলন আসে। শীতের আগে বাজারে আসায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি বাজারে প্রতি কেজি শিম ১০০ থেকে১২০ টাকায় বিক্রি করছেন।
মালিয়াট ইউনিয়নের পারক্ষিদ্দা গ্রামের কৃষক বলেন, এবার তিনি ২০ শতক জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ করেছেন। শিমের কঞ্চি, শ্রমিকের মজুরি ও কীটনাশক বাবদ তার ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ভাদ্র মাসের শুরু থেকে তিনি ১০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। শুরুতে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শিম ১২০ টাকায় বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে তার জমি থেকে আরও ৫০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করা যাবে।
রাখালগাছী ইউনিয়নের খোশালপুর গ্রমের কৃষক আসাদুল ও মিজান হোসেন বলেন, তারা দুজনে ৩০ শতক জমিতে চাষ করেছেন। সপ্তাহে তিন দিন বা দুই দিন তুলে বাজারে বিক্রি করেন। শীত মৌসুমের আগে শিম আসায় ক্রেতাদের কাছে কদর বেশি। তবে শীতকালীন শিম বাজারে এলে দাম কমে যাবে। এ সময় কৃষকেরা এ শিম না তুলে তার বিচি (খাইস্যা) সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করবেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ রায় বলেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে পোকার আক্রমণ কম হয়েছে। এতে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন কৃষকেরা। এবার রূপবান শিমের বাজারদর ভালো। কৃষকেরা আগের চেয়ে লাভবান হবেন বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব আলম রনি বলেন,ইপসা –২ (রূপবান) শিমের দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এখানকার মাটি শিম চাষের উপযোগী হওয়ায় প্রতিবছর এখানে বিভিন্ন প্রজাতির শিম চাষ হয়। তবে শীতকালীন মৌসুমের শিমের পাশাপাশি আগাম জাতের শিম চাষে সফলতা পেয়েছেন এখানকার কৃষকেরা।





