কুবির হলগুলোতে মশার উপদ্রব স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আবাসিক শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশার উপদ্রব বাড়ায় ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার সহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের সংক্রামণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় মশার অস্বাভাবিক বিস্তারের অন্যতম কারণ হলো যত্রতত্র জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক স্থান ও আবাসিক হলের আশপাশে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় সেখানে তৈরি হয়েছে মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র। বিশেষ করে আবাসিক হল গুলোর ড্রেন গুলোতে ময়লা জমে থাকার কারণে পানি চলাচলের অসুবিধা হচ্ছে। সেখানে পচনশীল আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে, যা পুরো ক্যাম্পাসের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষার্থীদের বৃত্তিতে এলিট গ্রুপের ২ কোটি টাকার ট্রাস্ট ফান্ড
কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুন্তাসির আজিম বলেন, "আমাদের হলটা অন্যান্য হলের তুলনায় নিচে অবস্থিত। এখানে ঝোপঝাড় তুলনামূলক অনেক বেশি। হলের ড্রেন গুলো সব অপরিস্কার, ঠিকমত পানি চলাচল করতে পারেনা। সেজন্য এখানে মশার প্রকোপও অনেক বেশি। বিশেষ করে রিডিং রুমে তো মশার জন্য পড়াশোনাই করা যায় না। নামাজের রুমেও প্রচুর মশা। আমরা প্রাশাসনের কাছে দাবি জানাই যাতে বেশি বেশি মশা নিরোধক ঔষধ ব্যবহার করা হয়।"
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সিফাতুল্লাহ বলেন, "হলে মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে, রুমের জানালা বন্ধ রাখার পরও মশার কামড় থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ফ্যান চালু রাখলেও মশার উপদ্রব কমে না। এতে পড়াশোনাসহ দৈনন্দিন কোনো কাজই স্বাভাবিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এসব মশার কামড়ের পর দীর্ঘক্ষণ ধরে চুলকানি অনুভূত হয়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
আরও পড়ুন: ভিসির বাসভবনের সামনে ঢাবি শিক্ষার্থীর অবস্থান
সুনীতি শান্তি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহনা মাইশা মিম বলেন, "রাতে যখন পড়াশোনা করি টেবিলের নিচটা অন্ধকার থাকার কারণে পায়ে প্রচুর মশা কামড় দেয়। এবং পড়াশোনা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তাছাড়া মশার উপদ্রব এত বেশি যে দিনের বেলাও মশার কামড় খাওয়া লাগে।"
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সেজুতি রানী বৈষ্ণব বলেন, "সন্ধ্যায় রুমে জানালা দরজা না লাগালে রুমের ভিতর বসাই যায় না। মশার প্রকোপ এত বেশি যে মশারির ভিতরেও মশা ঢুকে যায় এবং রাতে কয়েকবার উঠে মশা মারা লাগে। মশায় কামড় দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে জায়গাটা ফুলে যায় এবং প্রচুর চুলকানি অনুভূত হয়।"
এ বিষয়ে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট জনি আলম বলেন," মশা নিরোধক যে মেডিসিন গুলা আছে এটা হল প্রশাসনের হাতে না এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা দেখাশোনা করে। মশা নিরোধক স্প্রে গুলা সপ্তাহে একবার ব্যবহার করার কথা। আমরা শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এস্টেট শাখার কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি এবং সপ্তাহে দুইবার স্প্রে করার কথা বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা এটা বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।"
মশার উপদ্রব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ খলিলুর রহমান কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে একদিন ( বুধবারে) সকল হল এবং ক্যাম্পাসে মশা নিরোধক স্প্রে করি। বৃষ্টির জন্য হয়তো আমাদের সিডিউল টা মাঝে মাঝে ব্রেক হয়।
এই বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ রেজাউল করিম কে প্রশ্ন করলে তিনিও একই উত্তর দেন।
তার কাছে সর্বশেষ কবে স্প্রে করেছে এটার তালিকা দেখতে চাইলে তিনি বলেন, এটার কোন ডকুমেন্ট আমাদের কাছে নাই। তিনি বলেন এটা আলাদা করে লিখে রাখার জিনিস না।
আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মশা নিরোধক কোন ঔষধ ভালোভাবে ছিটানো হয়নি। হলের ড্রেন গুলোতে বেশি মশার জন্ম হচ্ছে। কারন ড্রেন গুলো অপরিষ্কার এবং ময়লা জমে থাকে। এই সমস্ত ড্রেন গুলোতে ঔষধ ছিটানো হয়না।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি চিপ মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহমুদ হাসান খান বলেন, "বর্তমানে মশার উপদ্রব একটু বেশি। সাধারণত দিনের বেলার মশাগুলোর কামড়ে মশাবাহিত রোগ যেমন ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি রোগ দেখা দেয়। মশার কামড়ের ফলে জায়গাটা ফুলে যায় এবং চুলকানি অনুভূত হয়।
তিনি আরো বলেন, যখন কোন পোকামাকড় আমাদের শরীরে কামড় দেয় তখন আমাদের এলার্জি জাতীয় সমস্যা দেখা দেয়। সেজন্য চুলকায় এবং জায়গাটা ফুলে ওঠে। আমরা চাইলে বিভিন্ন লোশান ব্যবহার করতে পারি।





