বিদেশে আত্মগোপনে থেকে চুনারুঘাট সীমান্তের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন ফয়সল

Shahrier Islam Pallab
চুনারুঘাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৯ পূর্বাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্তের কুখ্যাত মাদকসম্রাট ও ঘনশ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা ফয়সল ওরফে (গাঁজা ফইসল্যা) এবার বিদেশে বসেও অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকের সিন্ডিকেট পরিচালনা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার অপরাধে তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।

বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায়,চুনারুঘাট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তে আত্মীয়-স্বজনের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে ভারত থেকে মাদকের বড় বড় চালান দেশে প্রবেশ করাচ্ছে সে।কয়েকটি মাদক মামলায় পরে তিনি কৌশলে সৌদি আরব পারি দেন।সে দেশে না থাকার সুযোগে নিরবে সীমান্ত পথগুলোকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে তার বড় একটি মাদক সিন্ডিকেট।

আরও পড়ুন: নিকলীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার, ২১ দিনের কারাদণ্ড

ফয়সল এর অপরাধের প্রতিবাদ করায় চরম খেসারত দিতে হয়েছে তার নিজ পরিবারকেই। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহারাইন প্রবাসী আপন বড় ভাই বিল্লাল মিয়ার সুন্দর নান্দনিক বাড়িতে জোরপূর্বক পাচারকৃত মাদকের চালানের আখড়া বানাতে চেয়েছিল ফয়সল ও তার বাহিনী। বিল্লাল মিয়া ও তার স্ত্রী এতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। একপর্যায়ে ফইসল্যা ও তার অনুসারীরা নিজ ভাইয়ের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করে। এমনকি বিল্লাল মিয়া ও তার স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়।

নিজের পরিশ্রমে গড়ে তোলা নান্দনিক বাড়ি থাকা সত্ত্বেও ফয়সলের ক্যাডার বাহিনীর হুমকির মুখে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন দানবীর ও মানবিক বিল্লাল মিয়ার পরিবার। বর্তমানে চুনারুঘাট শহরের একটি ভাড়া বাসায় মানবেতর ও নিরাপত্তাহীন জীবনযাপন করছেন তারা। একজন প্রবাসীর পরিবার নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হওয়ার ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে চরম ক্ষোভ ও সামাজিক নিন্দার ঝড় তুলেছে।

আরও পড়ুন: ১৭ বছরের নিপীড়নের পরও দল আগলে রাখা নেতাকে শোকজ

এলাকাবাসীর মতে, ফয়সল সীমান্ত এলাকার উঠতি বয়সের যুবকদের মাদকের সাথে জড়িয়ে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তার এই অপরাধ সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবে বসে মাদকের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন তাদেরকে, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অশালীন পোস্ট করে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। 


চুনারুঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,সীমান্তে একটি বড় চোরাচালান কারবারি রয়েছে,যাদের কে ধরার জন্য আমার গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।বিদেশে বসে কেউ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করলে তথ্য প্রমান সহ তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।