নরসিংদীতে দু'পক্ষের গোলাগুলি, নিহত ১
নরসিংদী শহরের শিল্পাঞ্চল খ্যাত চৌয়ালা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদুল্লাহ ওরফে বাবু (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দু'জন গুরুত্বর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৫টায় দিকে চৌয়ালা লোকমান হোসেন পৌর স্কুলের পিছনে এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: আজ যেসব এলাকায় টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
নিহত যুবক শহরের চৌয়ালা এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে এবং সে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সনেট গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। অপর দিকে আহত দু'জন হলেন নিহত বাবুর বড় ভাই রুবেল (৩০) ও মিরাজ (২২)। সে শীর্ষ সন্ত্রাসী আবু লাল গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় লাউ চাষে চাচা-ভাতিজার সাফল্য
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সনেট গ্রুপ ও আবু লাল গ্রুপের সদস্যরা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। পরে আবু লাল সনেটকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করতে কিছুদিন পূর্বে অভিনব কৌশল অবলম্বন করে এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এরই সূত্র ধরে শুক্রবার বিকেলে চৌয়ালা লোকমান হোসেন পৌর স্কুলের পিছনে সনেট গ্রুপের সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আবু লাল গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। আবু লালও পাল্টা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে সনেট গ্রুপের শহিদুল্লাহ ওরফে বাবু নিহত হন। অপরদিকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাবুর বড় ভাই রুবেল ও আবু লাল গ্রুপের মিরাজ গুরুত্বর আহত হন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান জানান, নিহতের লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আবু লাল গ্রুপের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সনেট গ্রুপ ও আবু লাল গ্রুপ পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। এর আগেও বেশ কয়েকবার তারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আবার মাথা চাঁড়া দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা যতই চেষ্টা করুক না কেন, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স। ইতিমধ্যে তাদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছেন বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনার পর শিল্পাঞ্চল এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে আতঙ্ক ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।





