সাত দিনের উচ্ছেদ নোটিশ পেরিয়েছে ৫ বছর, সওজের জায়গায় বহাল স্থাপনা
মুন্সীগঞ্জ সদরে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অধিগ্রহণ করা জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাত দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়ার পর তা পেরিয়ে গেছে পাঁচ বছর। অথচ এখনও সেই স্থাপনা উচ্ছেদ হয়নি, রয়েছে বহাত তবিয়তে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলা সদরের রামপাল ইউনিয়নের সুজানগর ব্রিজ সংলগ্ন সওজের অধিগ্রহণের জায়গায় স্থানীয় আ’লীগ নেতা মিন্টু ভূইয়া গংরা একাধিক দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় অপহৃত শিশু সাইম উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
এছাড়াও সদর উপজেলার বনিক্যপাড়া, সিপাহীপাড়া ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাহপুর, বেতকা চৌরাস্তায় একাধিক স্থাপনা বিদ্যমান রয়েছে সওজগের জায়গায়। এতে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দেওয়া নোটিশে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ-লৌহজং-মাওয়া সড়কের (আর-৮১২) অধিগ্রহণ কেস নম্বর ৭৭/৫৬-৫৭-এর মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা ভূমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ করে জায়গাটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: আগুনে পুড়লো গৌরীপুরের ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হল
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সড়ক ও জনপথের অধিগ্রহণ করা জায়গায় অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করে ভূমি দখল করা হয়েছে। এটি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধানের পরিপন্থী ও দণ্ডনীয় অপরাধ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না করলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে ভূমি খালি করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং স্থাপনা অপসারণের যাবতীয় ব্যয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।
নোটিশের সংযুক্ত তালিকায় শাখাড়িবাজার মৌজায় ২৮ ফুট দ্ধ ১২ ফুট আয়তনের একটি টিনের পাকা স্থাপনার উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় মিন্টু ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির দোকান রয়েছে। আর সেই সব স্থাপনা এখনও বহাল থাকার চিত্র দৃশ্যমান ফুটে উঠেছে সরেজমিনে ঘুরে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, মিন্টু ভূঁইয়া সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের শাখারী বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের রামপাল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক। তার বাবা প্রয়াত সুলতান ভূঁইয়া।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে সওজের জায়গায় এসব স্থাপনা গড়ে ব্যবসা পরিচালনা করা হলেও কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান হয়নি। তাদের দাবি, বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের অদৃশ্য ছায়ায় স্থাপনা গুলো টিকে ছিল। সরকার পরিবর্তনের পরও সরকারি জমিতে স্থাপনাগুলো বহাল থাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে শাখারী বাজার এলাকার রাসেল ভূঁইয়া বলেন, জায়গাটি একসময় আমার দাদার নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে সরকার জায়গাটি অধিগ্রহণ করে নেয়। তখন এখানে পানি নিষ্কাশনের একটি ক্যানেল ছিল। পরে আমার দাদা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জায়গাটি লিজ নেন। কিন্তু ফখরুদ্দিন আহমেদের সরকারের সময়ে সেই লিজ স্থগিত করা হয়। এরপর আমরা লিজ নবায়নের জন্য আবেদন করে রাখি।
তিনি আরও বলেন, গত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে আমাদেরই বংশের মিন্টু ভূঁইয়া আমাদের স্থাপনা সরিয়ে দিয়ে ওই জায়গা দখল করে সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করেন। শুধু জায়গা দখল করেই তিনি থেমে থাকেননি, আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা-মোকদ্দমা করে হয়রানি করেছেন।
সরকারি জায়গায় স্থাপনা বিদ্যমান থাকার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মিন্টু ভূঁইয়ার চাচাত ভাই আনোয়ার ভূঁইয়া। তিনি বলেন, স্থাপনা গুলো সরকারি জায়গাতেই পড়েছে। এখান দিয়ে আগে এলাকার পানি নামত। ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে এখন আর সেখান দিয়ে পানি নামে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে থাকার পরও দীর্ঘ সময় ধরে তা বহাল থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে সওজের অধিগ্রহণ করা জমি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করা হোক।
এ ব্যাপারে জানতে মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত মিন্টু ভূইয়ার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। এসময় তিনি দাবী করেন জমিগুলো তার বাপ-দাদার। তিনি বলেন, আমারসহ আরও দুইজনের দোকান রয়েছে। সরকার যখন সড়কের কাজ করবে, তখন উঠে যাবো। আর আমাদের সাথে রাসেলদের জমিজমা নিয়ে মামলা চলছে, তারাতো আমার বিরুদ্ধে বলবেই। মুন্সীগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেন, চিঠি যেহেতু ২১ সালের, বিষয় জানতে হবে। খোঁজ খবর নিবো।





