গাজীপুরে নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ-বিজিবি-এসআরবি মোতায়েন
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন ও শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি ১২ প্লাটুন বিজিবি, ৮ প্লাটুন এসআরবি ও ৫ প্লাটুন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ
তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, শ্রমিকদের দাবিদাওয়া পূরণে সরকার কাজ করছে—এটি শ্রমিকদের মধ্যে ইতিবাচক উপলব্ধি তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
ফলে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আগ্রহও কমছে।
সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল বলে জানান তিনি।
তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় কয়েক হাজার শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের জবাবে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়।
পুলিশ সুপার জানান, জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সালনা, রাজেন্দ্রপুর, শফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কাশিমপুর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া বিবেচনায় সরকারের উদ্যোগ এবং প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতায় গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।





