রিপন মিয়াকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: ভাইরাল সংবাদের আড়ালে কোথায় সত্য?

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:১১ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ৬:১৯ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় এখন একটাই নাম— রিপন মিয়া। জনপ্রিয় এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ঘিরে চলমান বিতর্ক যেন থামছেই না। একদিকে টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে মাকে অবহেলার অভিযোগ, অন্যদিকে নিজের মায়ের কোলে কান্নায় ভেঙে পড়া রিপনের ভিডিও—দুই বিপরীত দৃশ্য একসঙ্গে নাড়িয়ে দিয়েছে সারা দেশের মানুষকে।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন প্রতিবেদনে রিপনের মাকে বলতে শোনা যায়, খুব কষ্ট করে মানুষ করছি, এখন পরিচয়ও দেয় না। আমরা গরিব, পরিচয় দিলে যদি ওর মান–ইজ্জত না থাকে!”

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জ এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়োগে তিন এমপির একরকম ডিও নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা রিপন এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা বাড়িতে থাকেন এবং মা–বাবার খরচ বহন করেন না। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। অনেকেই তাকে ‘অহংকারী’ ও ‘অবজ্ঞাকারী সন্তান’ আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেন।

তবে পরিস্থিতি পাল্টে যায় আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর। সেখানে দেখা যায়, রিপন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। তিনি বলেন, তোমারে দেহি না আমি? আব্বারে দেহি না আমি? তুমি ইড্ডা কী করলা? আমার জীবনডা শেষ করলা!

আরও পড়ুন: সাংবাদিক মমিনুল ইসলামের কন্যা মেঘা-মমিনুলের জন্মদিন উদযাপন

ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। যারা কিছুক্ষণ আগেও সমালোচনা করছিলেন, তাদের অনেকেই এবার সহানুভূতির সুরে কথা বলতে শুরু করেন। কেউ লিখেছেন, মা–ছেলের সম্পর্ক পবিত্র, বিচার করার আগে ভাবা দরকার। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ভুল হতে পারে, কিন্তু অনুতাপ থাকলে ক্ষমা প্রাপ্য।

এ প্রসঙ্গে রিপন মিয়া বলেন, এই মুহূর্তে কথা বলার মানসিক অবস্থায় নেই। তবে খুব শিগগিরই সব প্রশ্নের উত্তর দেব। আমি আমার পরিবারকে সব সময় দেখেছি, ভবিষ্যতেও দেখব। যাঁরা আমার সরল মা–বাবাকে ব্যবহার করেছে, তাদের বিচার একদিন হবেই।

গত সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে রিপন অভিযোগ করেন, কয়েকজন টেলিভিশন সাংবাদিক অনুমতি ছাড়াই আমার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ঘরে নারী সদস্য থাকার পরও ভিডিও করেছে। তারা পরিবারকে হেনস্তা করেছে।

নেত্রকোনার সদর উপজেলার এক কাঠমিস্ত্রির ছেলে রিপন মিয়া প্রথম আলোচনায় আসেন ২০১৬ সালে। তাঁর তৈরি একটি ভিডিও, বন্ধু তুমি একা হলে আমায় দিয়ো ডাক, তোমার সাথে গল্প করব আমি সারা রাত সহজ-সরল ভাষা, আবেগ এবং আঞ্চলিকতার ছোঁয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

এরপর থেকেই কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে জনপ্রিয়তা পান রিপন। তবে খ্যাতির পাশাপাশি নানা বিতর্কও পিছু নেয় তাঁকে।

রিপন মিয়াকে ঘিরে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে—ভাইরাল সংবাদের আড়ালে সত্যটা কোথায়? মা–ছেলের ব্যক্তিগত সম্পর্কের পূর্ণ ছবি আমরা কি কখনও জানতে পারি, নাকি শুধুমাত্র একাংশ দেখে রায় দিয়ে দিই?