ফাঁকা ঢাকায় প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় ডিএমপির

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:১৮ অপরাহ্ন, ২৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ৩:১৮ অপরাহ্ন, ২৭ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ রাজধানীর বিভিন্ন ঈদ জামাত এবং ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া ঢাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (২৭ মে) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা।

আরও পড়ুন: ঈদে নাশকতার সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই, নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি: র‍্যাব ডিজি

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহসহ রাজধানীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একই সময়ে ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিকভাবে ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তার সার্বিক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

তিনি জানান, জাতীয় ঈদগাহে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিদেশি কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ঈদের নামাজ আদায় করবেন। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য মোট পাঁচটি গেট রাখা হয়েছে, যার মধ্যে চারটি পুরুষ এবং একটি নারী মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত।

আরও পড়ুন: মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে পশুর হাট সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করলো ডিএমপি

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, জাতীয় ঈদগাহকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড (K-9) তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রবেশপথে আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন মনিটরিং, বিশেষ চেকপোস্ট ও ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে নিয়োজিত থাকবেন। সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, আলাদা প্রবেশ গেট ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি জাতীয় ঈদগাহে “লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার” স্থাপন করা হবে, যেখানে হারানো ও প্রাপ্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করা হবে।

ডিএমপি কমিশনার মুসল্লিদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ঈদগাহে আসা, নিরাপত্তা তল্লাশিতে সহযোগিতা করা এবং ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জায়নামাজ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়া কোনো ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ সঙ্গে না আনতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল ও মোটরসাইকেল পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিংমল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বাড়ানো হয়েছে বিশেষ নজরদারি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে বলেও জানান তিনি। যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ডিএমপি কমিশনার।