বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন নিয়ে বিভ্রান্তি, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যু জেআরডিতে অন্তর্ভুক্ত

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪১ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি ও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তিকর তথ্য, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য প্রচার করছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাহিনীটি বলছে, এসব তথ্য অনুমাননির্ভর এবং প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আরও পড়ুন: সীমান্তজুড়ে বিএসএফের ধারাবাহিক পুশ-ইন তৎপরতা, একের পর এক প্রতিরোধে বিজিবি

সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৩১টি এবং ভারতের পক্ষ থেকে ২১টি এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়। আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ ‘জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি)’ নামে প্রামাণিক দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালকরা স্বাক্ষর করেন।

বিজিবি জানিয়েছে, সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়। সীমান্তে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধ এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান জেআরডিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: দুদক

এছাড়া পুশ-ইন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পার্বত্য অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমসহ বাংলাদেশের উত্থাপিত সব উদ্বেগ আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচিত ও নথিবদ্ধ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজিবির দাবি, সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক দলিল পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সব বিষয় দৃঢ়ভাবে এবং কোনো ধরনের আপস ছাড়াই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১২ জুন ২০২৬ তারিখে বিজিবির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও জেআরডির ভিত্তিতেই প্রস্তুত করা হয়েছিল।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টাকেও ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছে বিজিবি।

বাহিনীটির বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত সম্মেলনের আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ দীর্ঘদিনের প্রচলিত কূটনৈতিক রীতি। এর আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালকও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একই ধরনের সাক্ষাৎ করেছিলেন।

বিজিবি আরও জানায়, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এবারের সাক্ষাৎ পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত ছিল। ওই সাক্ষাতে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ এবং অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বিজিবি বলেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, কাঁটাতার স্থাপন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যক্রমে বাহিনীটি জনমনে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে প্রমাণহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা বলে মনে করছে তারা।

সীমান্ত নিরাপত্তা, সীমান্ত হত্যা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও যাচাইকৃত সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিজিবি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাহিনীটি।