জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে মামলা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ন, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:০৭ অপরাহ্ন, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রতারণা ও মারধরের মাধ্যমে এক জুলাই যোদ্ধার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে এ আবেদন করেন জুলাই যোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন।

আরও পড়ুন: সাগর-রুনি হত্যা মামলায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির যোগসূত্রের ক্লু: চিফ প্রসিকিউটর

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়ামিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আবেদনে অভিযুক্ত ১৪ জন হলেন—জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালু রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।

আরও পড়ুন: সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের ৫ দিনের রিমান্ড

মামলার আবেদনে গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন, জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তিনি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক নিতে যান। সেখানে চেক না পেয়ে বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, তাসনিম জারা ও স্নিগ্ধকে বিষয়টি জানান। তারা তাকে ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে গেলে চেক দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

অভিযোগে বলা হয়, পরে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে তাকে এক দিন পর আসতে বলেন। এরপর গত বছরের ৩ মে চেক সংগ্রহের জন্য রমনা মডেল থানার আওতাধীন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে যান গিয়াস উদ্দিন।

সেখানে অভিযুক্তরা তার কাছে থাকা ৩ লাখ টাকার চেকের ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা দাবি করেন বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অর্থ দিলে ব্যাংক থেকে চেকের টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে গিয়াস উদ্দিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এরপর তাকে কৌশলে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও সাগর তার দুই হাত ধরে রাখেন এবং সাইদুর রহমান শাহিদ ও আফজালু রহমান সায়েম তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়।

একপর্যায়ে তাকে দেয়ালের দিকে ধাক্কা দেওয়া হলে রডের সঙ্গে মাথায় আঘাত লাগে এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে যান বলে অভিযোগ করেন গিয়াস উদ্দিন। পরে জ্ঞান ফেরার পর নিজের শরীর থেকে রক্ত পড়তে দেখেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।

গিয়াস উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে শাহিদ, সায়েম ও কামরুল তাকে মারধর করে সেখান থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে হারুন অর রশীদ ও কামরুল হোসেন তাকে ফাউন্ডেশনের লিফটের সামনে রেখে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

পরে তার ছেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মামলা করতে গিয়াস উদ্দিন থানায় গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে সময়ক্ষেপণ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হলে মঙ্গলবার আদালতে মামলার আবেদন করেন তিনি।